এপ্রিল ২৮, ২০২৬, ১২:১৬ পিএম
কুমিল্লার ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকাণ্ডের দীর্ঘ ১০ বছর পর এক আসামিকে আটকের ঘটনায় নতুন করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে তনুর দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের বিষয়ে নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেছেন তৎকালীন চিকিৎসক ডা. কামদা প্রসাদ সাহা। সোমবার সন্ধ্যায় এক ফেসবুক পোস্টে তিনি সাম্প্রতিক সমালোচনা ও বিতর্কের জবাব দেন।
ডা. কামদা প্রসাদ সাহা কুমিল্লা মেডিকেল কলেজের ফরেনসিক বিভাগের চিকিৎসক হিসেবে আদালতের নির্দেশে গঠিত দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন। দীর্ঘ ওই পোস্টে তিনি জানান, প্রথম ময়নাতদন্তের সঙ্গে তার কোনো সম্পর্ক ছিল না। আদালতের নির্দেশে লাশ তুলে যখন দ্বিতীয়বার ময়নাতদন্ত করা হয়, তখন মৃতদেহটি যথেষ্ট পচনশীল অবস্থায় ছিল।
চিকিৎসক কামদা প্রসাদ জানান, সিআইডির মাধ্যমে তনুর জামাকাপড়সহ বিভিন্ন নমুনার ডিএনএ পরীক্ষা করে তিনজন পুরুষের শুক্রাণুর ডিএনএ পাওয়া গিয়েছিল। ওই তথ্যটি দ্বিতীয় ময়নাতদন্ত রিপোর্টে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল।
তবে পচনের কারণে মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি। রিপোর্টে বলা হয়েছিল যে, পারিপার্শ্বিক ঘটনাক্রম বা সারকমস্টেনশিয়াল এভিডেন্স বিবেচনায় মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হতে পারে।ফেসবুক পোস্টে তিনি আক্ষেপ করে বলেন, রিপোর্টে কোথাও উল্লেখ করা হয়নি যে তনু ইচ্ছাকৃতভাবে একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে যৌন সংসর্গ করেছিলেন। তিনি মনে করেন, ডিএনএ পরীক্ষায় তিনজনের তথ্য মেলায় অনেকে ভুল ধারণা পোষণ করছেন। ডা. কামদা প্রসাদ উল্লেখ করেন, ময়নাতদন্তের প্রতিটি বক্তব্য আইনগতভাবে সংরক্ষিত এবং তা যাচাইযোগ্য।
সাম্প্রতিক বিতর্কের মুখে তিনি দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার গুঞ্জনও প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি জানান, সরকারি দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তিনি কোনো অন্যায় করেননি। বর্তমানে সামাজিক মাধ্যমে তাকে নিয়ে যে ধরণের সমালোচনা ও হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তাতে তিনি নিজের জীবন নিয়ে শঙ্কিত বোধ করছেন বলে পোস্টে উল্লেখ করেন।
উল্লেখ্য, ১০ বছর আগে কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকা থেকে সোহাগী জাহান তনুর লাশ উদ্ধার করা হয়েছিল। সম্প্রতি মামলার এক সন্দেহভাজন আসামি গ্রেপ্তারের পর ময়নাতদন্ত রিপোর্ট নিয়ে নতুন করে বিতর্ক শুরু হয়। ডা. কামদা প্রসাদ সাহা তার পেশাগত জীবনে হাজার হাজার ময়নাতদন্ত করেছেন এবং তিনি তনু হত্যার প্রকৃত বিচার চান বলে ওই পোস্টে জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন