নভেম্বর ১৮, ২০২৫, ১০:৪৬ এএম
দণ্ডপ্রাপ্ত কোনো আসামির বক্তব্য বা বিবৃতি গণমাধ্যমে প্রচার করা নিজে থেকেই কোনো অপরাধ নয়। তবে সেই বক্তব্যে যদি বিদ্বেষমূলক কথা থাকে যা সহিংসতা তৈরি করে বা সহিংসতার প্রতি সরাসরি আহ্বান জানায়, তবে সেটি অবশ্যই অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) সকালে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে এই মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিবিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব।
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে বিষয়টি বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন। তিনি জানান, সাইবার সুরক্ষা অধ্যাদেশ ২০২৫ অনুযায়ী, সাধারণভাবে 'হেট স্পিচ' বা বিদ্বেষমূলক বক্তব্যকে বাকস্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখা হয়েছে এবং এটি অপরাধ নয়।
কিন্তু, সেই বিদ্বেষমূলক বক্তব্য যদি সহিংসতা সৃষ্টি করে অথবা সহিংসতার জন্য উসকানি দেয়, কেবল তখনই তা অপরাধ বলে বিবেচিত হবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, এই অধ্যাদেশ প্রণয়নের সময় মানবাধিকার কর্মীদের সঙ্গে আলোচনায় সকলেই এই নীতির বিষয়ে একমত হয়েছিলেন।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্যের প্রতি ইঙ্গিত করে ফয়েজ তৈয়্যব লেখেন, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির বক্তব্য প্রচার করা অপরাধ নয়, কিন্তু যদি সেখানে সহিংসতা তৈরির উপাদান থাকে তাহলে তা অবশ্যই অপরাধ। তিনি দাবি করেন, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলোর বেশিরভাগই দেশব্যাপী সহিংসতা তৈরির জন্য একটি খোলা আহ্বান।
এই কারণেই এ ধরনের সহিংসতা তৈরির আহ্বান সংবলিত বক্তব্য ডিজিটাল মিডিয়া বা সাইবার স্পেসে প্রচার করাও অপরাধের পর্যায়ে পড়ে বলে তিনি মনে করেন।তিনি আরও জানান, এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় সাইবার সুরক্ষা এজেন্সি সম্প্রতি একটি সচেতনতামূলক প্রজ্ঞাপন এবং সতর্কতা জারি করেছে, যাতে গণমাধ্যম এবং সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীরা এ ধরনের বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে আইনি বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে সতর্ক থাকতে পারেন।
উল্লেখ্য, গত বছরের জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন। বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই রায় দেন। একই মামলায় সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হওয়ায় এবং ট্রাইব্যুনালকে সহযোগিতার করায় তাকে ৫ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন