ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২৬, ০৬:৫৫ পিএম
সম্প্রতি জাতীয় দৈনিক কালের কণ্ঠকে দেওয়া রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের একটি সাক্ষাৎকারকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। মঙ্গলবার বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে তিনি রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক বক্তব্যকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং অগ্রহণযোগ্য হিসেবে অভিহিত করেন।
জামায়াত আমিরের দাবি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনাবলি নিয়ে রাষ্ট্রপতি অনেক তথ্য গোপন করেছেন এবং সে সময়কার বাস্তব পরিস্থিতির সম্পূর্ণ বিপরীত তথ্য এখন জনসম্মুখে প্রচার করছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদে আসীন একজন ব্যক্তির কাছ থেকে এমন আচরণ জাতি প্রত্যাশা করে না বলে তিনি তার মন্তব্যে উল্লেখ করেন।
ডা. শফিকুর রহমান তার বার্তায় উল্লেখ করেন যে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে রাষ্ট্রপতি উপস্থিত রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এবং পরবর্তীতে জাতির উদ্দেশ্যে যা বলেছিলেন বর্তমান সাক্ষাৎকারে তিনি তা অস্বীকার করছেন।
সেদিন রাষ্ট্রপতি যে বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং বর্তমানে তিনি যা দাবি করছেন তার মধ্যে বিশাল ফারাক রয়েছে বলে জামায়াত আমির মনে করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কোটি কোটি মানুষ যা নিজের কানে শুনল এবং প্রত্যক্ষ করল তার হিসেব রাষ্ট্রপতি এখন কীভাবে মেলাবেন। শফিকুর রহমানের মতে দেশের জনগণ রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন এবং তাদের বিভ্রান্ত করার এই অপচেষ্টা সফল হবে না।কালের কণ্ঠকে দেওয়া ওই বিতর্কিত সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন।
তিনি দাবি করেন যে তাকে পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি বিশেষ মহল থেকে সক্রিয় চেষ্টা চালানো হয়েছিল। তবে বিএনপি এবং সামরিক বাহিনী তার পাশে থাকায় এবং তাকে সমর্থন দেওয়ায় সেই চেষ্টা সফল হয়নি বলে তিনি সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন। রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্য প্রকাশিত হওয়ার পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে যার প্রেক্ষিতে জামায়াত আমিরের এই বিস্ফোরক প্রতিক্রিয়া সামনে এল।
জামায়াত আমিরের মতে রাষ্ট্রের অভিভাবক হিসেবে রাষ্ট্রপতির পদটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সেখান থেকে কোনো অসত্য বা বিভ্রান্তিকর তথ্য আসা অত্যন্ত দুঃখজনক। তিনি মনে করেন ৫ আগস্টের গণ-অভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রপতি যে ভূমিকা পালন করেছিলেন তা ইতিহাসের অংশ এবং বর্তমানে দেওয়া তার বক্তব্য সেই ইতিহাসের সাথে সাংঘর্ষিক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন জামায়াত আমিরের এই কড়া অবস্থানের ফলে রাষ্ট্রপতির নৈতিক অবস্থান নিয়ে ভবিষ্যতে আরও বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে অন্তর্বর্তী সরকারের সাথে রাষ্ট্রপতির বর্তমান সম্পর্কের টানাপোড়েন এই সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন