শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬,

রোববার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৪, ২০২৬, ০৪:৪২ পিএম

রোববার সনাতন ধর্মাবলম্বীদের লক্ষ্মীপূজা

বাঙালি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা অনুষ্ঠিত হবে রোববার। শারদীয় দুর্গোৎসবের বিজয়া দশমীর পর প্রথম আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথিতে ভক্তরা সারা রাত জেগে ধনধান্য ও সৌভাগ্যের দেবী লক্ষ্মীর আরাধনা করেন। বিনিদ্র রজনী যাপন করে এই পূজা উদযাপিত হয় বলেই শাস্ত্রীয় পরিভাষায় একে কোজাগরী পূর্ণিমা বা কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা বলা হয়।

সনাতন শাস্ত্রীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, দেবী লক্ষ্মী মূলত ধনসম্পদ ও ঐশ্বর্যের প্রতীক। তিনি সার্বিক সমৃদ্ধি, আলো, প্রজ্ঞা, সৌভাগ্য, উর্বরতা, দানশীলতা, সাহস এবং অপরূপ সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে পূজিত হন। পৌরাণিক বিশ্বাসে লক্ষ্মীর বাহন হলো প্যাঁচা। ভগবান বিষ্ণু যখন ত্রেতা ও দ্বাপর যুগে যথাক্রমে রাম ও কৃষ্ণ রূপে অবতার গ্রহণ করেছিলেন, তখন দেবী লক্ষ্মী সীতা ও রাধা রূপে তাঁর চিরন্তন সঙ্গিনী হয়েছিলেন।

কোজাগরী পূর্ণিমার রাতে দেবী মর্ত্যলোকের প্রতিটি ভক্তগৃহে ধনধান্যের প্রাচুর্য ছড়িয়ে দিতে আগমন করেন বলে ভক্তদের গভীর বিশ্বাস। সুদূর প্রাচীনকাল থেকেই রাজা-মবাদশা ও ব্যবসায়ী সমাজ থেকে শুরু করে সাধারণ গৃহস্থ পরিবার পর্যন্ত সবাই ভক্তিভরে লক্ষ্মীদেবীর চরণে অঞ্জলি নিবেদন করে আসছেন।

বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকার গণনা অনুযায়ী, রোববার বেলা ১১টা ৫৫ মিনিটে পূর্ণিমা তিথির সূচনা ঘটবে। এই পবিত্র তিথি অব্যাহত থাকবে পরদিন সোমবার সকাল ৯টা ৪১ মিনিট পর্যন্ত।

বাঙালির চিরায়ত লোকসংস্কৃতিতে দেবী লক্ষ্মীকে নিয়ে অসংখ্য ভক্তিমূলক গল্প ও মাহাত্ম্য প্রচলিত রয়েছে। পূজার দিন সন্ধ্যায় প্রতিটি ঘরে নারীরা ভক্তিভরে এই আখ্যানগুলো পাঠ করেন, যা বাংলার লোকসমাজে ‘লক্ষ্মীর পাঁচালি’ নামে সুপরিচিত।

পূজার আনুষ্ঠানিকতায় বেশ কিছু মাঙ্গলিক উপাদান অপরিহার্য অনুষঙ্গ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যার মধ্যে রয়েছে লাল সিঁদুর, মাটির ঘট, নতুন ধানের ছড়া, পবিত্র মাটি, আম্রপল্লব, তাজা ফুল, দূর্বাঘাস, তুলসীপাতা, হরীতকী, চন্দন, ধূপ, মাটির প্রদীপ, ফলমূলের নৈবেদ্য, আতপ চাল এবং গঙ্গাজল। পূজার দিন সকাল থেকেই গৃহকোণ ও আঙিনায় চালের গুঁড়োর মিশ্রণে বিশেষ আলপনা এঁকে দেবীর চরণচিহ্ন ফুটিয়ে তোলা হয়।

উৎসবের অংশ হিসেবে পরিবারের নারীরা সারা দিন উপবাসব্রত পালন করে থাকেন। মাটির প্রতিমা স্থাপন করে কিংবা কেবল মঙ্গলঘট বসিয়ে ব্যক্তিগত ও সর্বজনীনভাবে এই পূজার আয়োজন করা হয়।

পূজার মূল বৈশিষ্ট্য হলো গভীর রাত পর্যন্ত ভক্তদের জেগে থাকা। শাস্ত্রীয় বিশ্লেষণ অনুসারে ‘কোজাগরী’ শব্দটির ব্যুৎপত্তিগত অর্থ হলো ‘কে জাগরী’ বা ‘কে জেগে আছো’। সনাতন ধর্মবিশ্বাস মতে, এই পুণ্য রাতে দেবী লক্ষ্মী সর্বত্র পরিভ্রমণ করেন। কিন্তু যে গৃহের প্রবেশদ্বার বন্ধ থাকে এবং গৃহবাসীরা নিদ্রামগ্ন থাকেন, দেবী সেখান থেকে ফিরে যান। এ কারণেই দেবীর আশিস লাভের প্রত্যাশায় ভক্তরা সারা রাত প্রদীপ জ্বেলে ভক্তিগীতি ও পাঁচালি পাঠের মাধ্যমে জেগে থাকেন।

আশ্বিনী পূর্ণিমা তিথি ছাড়াও সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবার বিশেষভাবে লক্ষ্মীদেবীর সাপ্তাহিক আরাধনা করে থাকেন। পাশাপাশি কোনো কোনো অঞ্চলে কার্তিক মাসের দীপান্বিতা অমাবস্যার সন্ধ্যায়ও বিশেষ রীতিতে দেবী লক্ষ্মীর আরাধনার প্রচলন রয়েছে।