অক্টোবর ১৪, ২০২৫, ০৯:২২ পিএম
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাতারাতি জনপ্রিয়তা অর্জন করা 'রিপন ভিডিও' ওরফে রিপন মিয়া, এখন তার নিজ বাবা-মায়ের কাছ থেকে গুরুতর অভিযোগের মুখে পড়েছেন। এটিএন নিউজের একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, নেত্রকোনার এই তরুণ তার খ্যাতি বাড়ার পর থেকে গরীব বাবা-মায়ের পরিচয় দিতে লজ্জা পান এবং তাদের ভরণপোষণ দেন না।
এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগগুলো রিপনের জনপ্রিয়তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। এটিএন নিউজ টিম ঢাকা থেকে নেত্রকোনায় গিয়ে অনুসন্ধানে নামে এবং কাকতালীয়ভাবে রিপনের মায়ের কাছ থেকেই তার ঠিকানা জানতে পারে। সেখানেই রিপনের মা নিজে থেকেই তার ছেলের পরিচয় দেন এবং অভিযোগ করেন যে, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে মানুষ করার পর এখন রিপন তার বাবা-মায়ের খোঁজখবর নেন না এবং তাদের পরিচয় দিতেও নাকি লজ্জা পান।
রিপনের মা আফসোস করে বলেন, "খুব কষ্ট করে মানুষ করছি কিন্তু এখন পরিচয় দিতে আমরারে আমরা গরিব পরিচয় দিলে যদি ওর মান সম্মান না থাকে।" তিনি আরও জানান, রিপন একটি পুরনো ভাঙা বাড়ি ছেড়ে আলাদা একটি পাকা বাড়ি নির্মাণ করে তার স্ত্রী-সন্তান নিয়ে থাকেন, কিন্তু বাবা-মায়ের ভরণপোষণের দায়িত্ব নেন না।
রিপনের মা ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করেন যেন তার ছেলে আরও বড় হয়। রিপনের বাবা জানান, প্রথমে তার সহযোগিতায় রিপন ভিডিও বানাতো, কিন্তু পরে তাকে বাদ দিয়ে অন্য কারো সাথে ভিডিও বানানো শুরু করে। এই আক্ষেপে এখন তিনি ছেলের ভিডিও দেখেন না। রিপনের বাবা-মায়ের অভিযোগ, রিপন দেশ-বিদেশে ঘুরে বেড়ান, ফাইভ স্টার মানের হোটেলে থাকেন, দামি দামি বাহারি খাবার খেয়ে ফেসবুকে ছবি আপলোড করেন, অথচ তাদের খোঁজখবর নেন না।
এটিএন নিউজ টিম রিপনের বাবা-মায়ের নির্দেশে তার চাচাতো বোন জামাইকে সঙ্গে নিয়ে রিপনের নতুন বাড়িতে যায়, যেখানে একটি পাকা বাড়ি নির্মাণের কাজ চলছে। তবে সেখানে রিপনকে পাওয়া যায়নি। পরে বাড়ির সামনে একটি চায়ের দোকানে রিপন মিয়াকে খুঁজে পাওয়া যায়। তার সাথে কথা বলতে চাইলে তিনি প্রথমে ম্যানেজারের সাথে কথা বলতে বলেন এবং দাবি করেন যে, খুব সহজে কারো সাথে কথা বললে তার 'ডিমান্ড' কমে যায়।
তার মতে, একটি মিষ্টি সহজে পেলে যেমন তার কদর কমে যায়, তেমনই তিনিও সহজে সাক্ষাৎকার দিলে তার মূল্য কমে যাবে। এরপর রিপন তার পরিবার সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য দেন; স্ত্রী ও দুটি সন্তান থাকার পরও তিনি বলেন যে, তিনি এখনও বিয়ে করেননি এবং তার স্ত্রী দাবি করা নারী তার বড় ভাইয়ের বউ। তিনি দাবি করেন যে, অনেকেই অনেক কথা বলে, সব মানুষের মুখে ধরে রাখা যায় না এবং একজন মানুষ সবার কাছে ভালো হতে পারে না।
এই ঘটনার কয়েক ঘন্টা পর রিপন মিয়া নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দেন, যেখানে তিনি দাবি করেন যে, তার পরিবারের অনুমতি না নিয়েই সাংবাদিকরা তার বাড়িতে গিয়ে ভিডিও ধারণ করেছেন। এই স্ট্যাটাসটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে দেশের অনেক আলোচিত ব্যক্তি রিপনের পাশে দাঁড়ান।
এটিএন নিউজের অনুসন্ধানে দেখা যায়, এই ঘটনার সময় ঢাকা থেকে আসা আরও দুজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর রিপনের সাক্ষাৎকার নিতে অপেক্ষা করছিলেন। তাদের একজন, আসাদ ভূঁইয়া, জানান যে তারা যখন রিপনের বাড়িতে যান, তখন সে ঘুমাচ্ছিল এবং তার স্ত্রী বাইরে ছিলেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন