বৃহস্পতিবার, ০৫ নভেম্বর, ২০২৬,

এসপিদের বিশেষ বার্তা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১১, ২০২৫, ১০:১১ এএম

এসপিদের বিশেষ বার্তা, সতর্ক অবস্থানে পুলিশ

মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আগামী ১৩ নভেম্বর কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার রায় ঘোষণার তারিখ ট্রাইব্যুনাল জানাবে। এই রায়কে কেন্দ্র করে ঢাকাসহ সারাদেশে যাতে কোনো ধরনের নৈরাজ্য সৃষ্টি না হতে পারে, সেদিকে কঠোর নজরদারি রেখেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশের টহল পার্টি, মোবাইল পার্টি ও পিকেট পার্টিকে সক্রিয় করার পাশাপাশি পুলিশের সব ইউনিটকে সতর্ক করা হয়েছে।

রায় ঘোষণার দিনকে কেন্দ্র করে যাতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কোনোভাবেই বিঘ্নিত না হয়, সেজন্য পুলিশ সদর দপ্তর থেকে দেশের সকল জেলার পুলিশ সুপারদের (এসপি) কাছে বিশেষ বার্তা দেওয়া হয়েছে।

এই বার্তা অনুযায়ী, ঝটিকা মিছিল কঠোরভাবে ঠেকাতে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পুলিশের আশঙ্কা, দলটির নেতাকর্মীরা অনলাইন ও অফলাইনে সংঘবদ্ধ প্রচারণার মাধ্যমে নৈরাজ্য সৃষ্টির চেষ্টা করতে পারে। তাদের কাছে তথ্য আছে যে তারা সরকারি ও বেসরকারি স্থাপনায় হামলা ও গাড়ি ভাঙচুর করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করতে পারে।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, গত এক সপ্তাহ ধরে টিকটকে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা দেশ-বিদেশ থেকে ছোট ছোট ভিডিও তৈরি করে উসকানিমূলক বক্তব্য দিচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে হামলার নির্দেশ দিচ্ছে। এই প্রচারণায় ১৩ নভেম্বর হাসিনা দিল্লি থেকে বাংলাদেশে ঢুকবে—এমন তথ্যও দেওয়া হচ্ছে। এই ধরনের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত টিকটকারদের তালিকা তৈরি করেছে পুলিশ। পাশাপাশি বিদেশে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক বাহাউদ্দিন নাছিম, প্রেসিডিয়াম সদস্য জাহাঙ্গীর কবীর নানক সহ যারা ফেসবুকে প্রচার চালাচ্ছেন, তাদেরও তালিকা করেছে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১৩ নভেম্বর ঘিরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা যাতে ঢাকায় প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য রাজধানীর প্রবেশপথগুলোতে বাড়তি নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহন তল্লাশি করছে। এছাড়াও ধর্মীয় উপাসনালয় ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং র‌্যাবকে ঢাকার সড়কে টহল দিতে দেখা গেছে।

পুলিশের একাধিক দায়িত্বশীল কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অন্তর্বর্তী সরকার আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণা করলেও দলটির নেতাকর্মীরা ছদ্মবেশে তৎপর রয়েছে। তারা হঠাৎ হঠাৎ ঝটিকা মিছিল করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে আগামী ১৩ নভেম্বরকে কেন্দ্র করে তারা গোপনে একত্র হয়ে সহিংসতা বা হামলার পরিকল্পনা করতে পারে বলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী আশঙ্কা করছে।

এই পরিস্থিতিতে পুলিশের সব ইউনিটকে রাজনৈতিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ, সন্দেহভাজন ব্যক্তি ও যানবাহনের ওপর নজরদারি, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনায় নিরাপত্তা জোরদার এবং সাইবার গোয়েন্দা কার্যক্রম তীব্র করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।আইজিপি বাহারুল আলম গতকাল রাতে জানান, নৈরাজ্য মোকাবিলায় তারা সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছেন। ডিএমপিকে পুলিশের অন্য ইউনিট সহযোগিতা করবে, বিজিবি মাঠে থাকবে এবং ইন এইড টু সিভিল পাওয়ারের আওতায় সেনাবাহিনীও মাঠে থাকবে। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, আইনশৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটালে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।