নভেম্বর ১১, ২০২৫, ১২:৫২ পিএম
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন যে, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে সুন্দর ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হবে। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এই তথ্য নিশ্চিত করে বলেছেন, দেশের জনগণ খুব সুন্দর, ফ্রি এবং ফেয়ার একটা ইলেকশন দেখতে পাবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সমস্ত জনগণের অংশগ্রহণে নির্বাচন হবে উৎসবমুখর পরিবেশে।মঙ্গলবার সকাল ১১টায় কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুল আলম বলেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে হওয়া কয়েকটি ভালো নির্বাচনের মতো এবারও ছেলে-মেয়ে, বাবা-মা সবাই একসাথে ভোটকেন্দ্রে ভোট দেবেন।
গ্রামের লোকজন ভোটকেন্দ্রের বাইরে অবস্থান করে আড্ডা দেবেন এবং নির্বাচনে কে জিতবে—সেই আলাপ আলোচনা করবেন। তিনি বলেন, "প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূস প্রমিস করেছে বাংলাদেশের ইতিহাসের বেস্ট ইলেকশন হবে।"নির্বাচনের সময়সীমা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নির্বাচনের কাউন্টডাউন শুরু হয়েছে। তিন মাসের মধ্যেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এমনকি তিন মাসের কম সময়ের মধ্যেও নির্বাচন হতে পারে।
তাঁর ইঙ্গিত, ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তিনি দেশবাসীকে নিশ্চিত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "খুব সুন্দর একটা নির্বাচন হবে।" সম্প্রতি অনুষ্ঠিত চারটি ছাত্র নির্বাচনে আশি শতাংশ পর্যন্ত ভোট পড়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে জুলাই সনদ নিয়ে মতবিরোধের বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, রাজনৈতিক দল থাকলে মতভেদ থাকবেই। এটাকে সরকার সিরিয়াস কিছু মনে করছে না। যারা ঐক্যমত কমিশনের সাথে আলোচনা করেছেন, তারা নয় মাস ধরে খুব সুন্দর ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আলোচনা করেছেন।
তিনি আশা করেন, কিছু কিছু বিষয়ে যে মতবিরোধ রয়েছে, তা কিছু সময়ের জন্য হলেও নিরসন হবে। তিনি আরও জানান, সবাই কিন্তু নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছে। অলরেডি বিএনপি ২৩৭টা আসনে প্রার্থী ঘোষণা করেছে, পাশাপাশি জামায়াতও বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে। এতে বোঝা যায়, বড় বড় দলগুলো নির্বাচনমুখী।এদিকে, শফিকুল আলম আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষিত সন্ত্রাসী দল হিসেবে আখ্যায়িত করে বলেন, ১৩ নভেম্বরকে সামনে রেখে আওয়ামী লীগ এক ধরনের বিশৃঙ্খলা এবং সন্ত্রাসী কার্যক্রম করার চেষ্টা করছে। পুলিশ এ বিষয়ে খুবই সতর্ক অবস্থানে আছে।
তিনি জানান, এখন পর্যন্ত সারাদেশে সাতটি বাসে আগুন দেওয়া হয়েছে এবং এটি আওয়ামী লীগের লোকজনই করেছে বলে তাদের ধারণা। এর প্রমাণ হিসেবে ডেমরা এলাকা থেকে একজনকে হাতেনাতে ধরা হয়েছে, যার বাড়ি গোপালগঞ্জে। এছাড়াও ময়মনসিংহে একজন বাস চালককে ঘুমন্ত অবস্থায় আগুনে পুড়িয়ে মারার ঘটনাটিও নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের কাজ। তিনি বলেন, এই কার্যক্রমের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ প্রমাণ করেছে কেন তাদের নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
কুলিয়ারা উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নির্বাহী অফিসার জামাল হোসেনসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন