নভেম্বর ১৪, ২০২৫, ০৪:৫৪ পিএম
বিগত তিনটি জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানামুখী বিতর্ক ও একতরফা জালিয়াতির অভিযোগ থাকায় এবার নির্বাচন ব্যবস্থাকে ঢেলে সাজাতে নড়েচড়ে বসেছে সরকার ও নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন ব্যবস্থাকে স্বচ্ছ ও প্রশ্নাতীত করতে বিগত তিন নির্বাচনে দায়িত্ব পালনকারী প্রায় ১৩ লাখ কর্মকর্তাকে নির্বাচনী কার্যক্রম থেকে দূরে রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত খতিয়ে দেখছে কমিশন।
সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা আসার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয় প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার নিয়োগের ক্ষেত্রে বড় ধরনের রদবদল আনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে এবং ইতিমধ্যে ২৯ জেলায় নতুন ডিসি নিয়োগের মাধ্যমে মাঠ প্রশাসনে পরিবর্তনের হাওয়া লেগেছে।
নির্বাচন কমিশন সচিব আখতার আহমেদ বিষয়টি নিশ্চিত করে গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে বিগত নির্বাচনগুলোতে ন্যূনতম সংশ্লিষ্টতা ছিল।
এমন কর্মকর্তাদের এবার তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে তবে বিষয়টি একটি সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হবে। তিনি উল্লেখ করেন যে কেবল ঢালাওভাবে বাদ দেওয়া হবে না বরং পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি রাজনৈতিক পরিচয় এবং অতীত কর্মকাণ্ড বিবেচনা করেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে এবং প্রয়োজনে এক কর্মস্থল থেকে অন্য কর্মস্থলে বদলি ও নতুন জনবল নিয়োগের মাধ্যমে শূন্যস্থান পূরণ করা হবে।
তবে সাধারণত স্কুল শিক্ষক ও ব্যাংক কর্মকর্তারা ভোটের মাঠে পোলিং অফিসারের গুরুদায়িত্ব পালন করে থাকেন বলে একসঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক অভিজ্ঞ জনবল বাদ দেওয়া হলে আগামী নির্বাচনে কারা দায়িত্ব নেবেন তা নিয়ে বড় ধরনের ব্যবহারিক সংকট ও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন দেশের জ্যেষ্ঠ নির্বাচন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচন বিশেষজ্ঞ জেসমিন টুলি মনে করেন যে যারা প্রত্যক্ষভাবে দলীয় আনুগত্য প্রদর্শন করেছেন বা দলকানা হিসেবে পরিচিত তাদের অবশ্যই বাদ দেওয়া উচিত কিন্তু ঢালাওভাবে সবাইকে অযোগ্য ঘোষণা করাটা বাস্তবসম্মত সমাধান নাও হতে পারে।
তিনি যুক্তি দেখান যে নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালন করা একটি সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা এবং সরকারি চাকরিতে থাকার কারণে অনেকেই বাধ্য হয়ে বা অপারগতা প্রকাশের সুযোগ না থাকায় সেই দায়িত্ব পালন করেছেন। তাই কেবল আগের ভোটে থাকার কারণে কাউকে ঢালাওভাবে বাদ না দিয়ে বরং সততা ও দক্ষতার মাপকাঠিতে যাচাই করে দায়িত্ব প্রদান করাটাই হবে যুক্তিযুক্ত পদক্ষেপ। সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করতে কর্মকর্তাদের নিরপেক্ষতা যাচাইয়ে কমিশনকে আরও কঠোর ও কৌশলী হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন