নভেম্বর ১৭, ২০২৫, ০৭:১৮ পিএম
চব্বিশের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১।
এই ঐতিহাসিক রায়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশে ট্রাইব্যুনাল নির্দেশ দিয়েছেন, শহীদ পরিবার এবং আহতদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। সেই সাথে, দণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা ও আসাদুজ্জামান খান কামালের সব সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার এবং তা রাষ্ট্রীয় মালিকানায় নেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
সোমবার বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদারের নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এই রায় ঘোষণা করেন।
রায় প্রদানকারী এই ট্রাইব্যুনালের অপর দুই বিচারক হলেন মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী। এই মামলার বিচারিক কার্যক্রমে প্রসিকিউশন পক্ষে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলামসহ একটি দল শুনানি করেন। অন্যদিকে, পলাতক আসামিদের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মো. আমির হোসেন এবং রাজসাক্ষী সাবেক আইজিপি চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুনের পক্ষে আইনজীবী যায়েদ বিন আমজাদ শুনানি করেন।
ঐতিহাসিক এই মামলায় মোট চুয়ান্ন জন (৫৪) সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন, যার মধ্যে ছিলেন গণ-অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের পিতা, স্বজনহারা পরিবারের অনেকে এবং জুলাই আন্দোলনের নেতৃত্বদানকারী জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমানও স্টার উইটনেস হিসেবে সাক্ষ্য দেন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলায় শেখ হাসিনা, আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি আবদুল্লাহ আল-মামুনের বিরুদ্ধে গত ১০ জুলাই অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেওয়া হয়। একপর্যায়ে দোষ স্বীকার করে সাবেক আইজিপি মামুন রাজসাক্ষী হন এবং তাকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থান দমনে আওয়ামী লীগ সরকার, তাদের দলীয় ক্যাডার ও সরকারের অনুগত প্রশাসনসহ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একটি অংশ গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত করেছিল বলে ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ জমা পড়ে। এখন দুটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সে সব অভিযোগের বিচার চলছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন