শুক্রবার, ০৬ নভেম্বর, ২০২৬,

দুই প্রজন্মের বিদায়: খালেদা জিয়া আর শরীফ ওসমান হাদি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৩০, ২০২৫, ০৮:১৮ পিএম

দুই প্রজন্মের বিদায়: খালেদা জিয়া আর শরীফ ওসমান হাদি

বাংলাদেশের রাজনীতিতে কয়েক সপ্তাহের ব্যবধানে যেন দুটি বড় অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটলো। একদিকে দীর্ঘ অসুস্থতার পর বয়সের নিয়মে বিদায় নিলেন গণতন্ত্রের তিন দশকের কাণ্ডারি বেগম খালেদা জিয়া। অন্যদিকে, জুলাই বিপ্লবের তেজস্বী তরুণ মুখ এবং ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে হারিয়েছে জাতি।

এই দুই মৃত্যু যেন বাংলাদেশের রাজনীতির দুই প্রান্তকে—অতীতের ঐতিহ্য আর ভবিষ্যতের সম্ভাবনাকে—একই বিন্দুতে জুড়ে দিয়েছে।

বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন একটি বিশাল ছায়া দানকারী বৃক্ষের মতো। ১৯৮১ সালে জিয়াউর রহমানের শাহাদতের পর নেতৃত্বশূন্য বিএনপিকে তিনি আগলে রেখেছিলেন। এরশাদবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৯১ সালে দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হওয়া—সবখানেই তাঁর আপসহীন নেতৃত্ব ছিল স্পষ্ট।

অন্যদিকে, শরীফ ওসমান হাদি ছিলেন ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সেই বীজ, যার মধ্যে ইনসাফপূর্ণ বাংলাদেশের স্বপ্ন লুকিয়ে ছিল। ৫ আগস্ট স্বৈরাচারের পতনের পর যখন নতুন দেশ গড়ার স্বপ্ন দেখা হচ্ছিল, ঠিক তখনই ডিসেম্বরের এক বিকেলে আততায়ীর গুলিতে প্রাণ হারান এই তরুণ তুর্কি।এই দুই নেতার লড়াইয়ের ধরণ ছিল ভিন্ন। খালেদা জিয়া লড়েছেন সংসদীয় গণতন্ত্র ও রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ভেতর দিয়ে। আর হাদির লড়াই ছিল রাজপথে এবং সামাজিক মাধ্যমে বুলেটের সামনে দাঁড়িয়ে।

একজনের বিদায় শান্ত সূর্যাস্তের মতো হলেও অন্যজনের প্রস্থান হঠাৎ ঝড়ে উপড়ে পড়া গাছের মতো। খালেদা জিয়ার প্রয়াণে বিএনপি এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন অধ্যায় শুরু করছে, আর হাদির রক্ত জুলাই বিপ্লবের চেতনাকে আরও তীব্র করেছে।

সামনের নির্বাচন এখন শুধু ক্ষমতার লড়াই নয়, বরং হাদির রক্ত আর খালেদা জিয়ার উত্তরাধিকারের সঠিক মূল্যায়ন করার পরীক্ষা। শহীদ হাদির সাহসিকতা আর দেশনেত্রীর গণতন্ত্রের সংগ্রামকে পাথেয় করে একটি নতুন ও বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার দায়িত্ব এখন এ প্রজন্মের কাঁধে। তাঁদের চলে যাওয়া আমাদের শিখিয়ে গেল—লড়াই কত জরুরি এবং আগামীর সার্বভৌমত্ব রক্ষায় কতটা ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন।