জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ০৪:৫৮ পিএম
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হয়েছে। এই নির্বাচনকে ঘিরে ‘রাজনৈতিক দল ও প্রার্থী আচরণ বিধিমালা ২০২৫’ জারি করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নতুন এই বিধিমালায় জনদুর্ভোগ কমানো এবং পরিবেশ রক্ষার ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়েছে।
ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী, আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি রাত ১২টা পর্যন্ত প্রার্থীরা প্রচারণা চালাতে পারবেন। তবে ভোটার ও সাধারণ জনগণের চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি করতে পারে এমন কোনো স্থান, সড়ক বা মহাসড়কে কোনো প্রকার জনসভা বা পথসভা করা যাবে না।
নির্বাচন কমিশনের বিধিমালায় এবার পরিবেশ রক্ষায় কঠোর অবস্থান নেওয়া হয়েছে। প্রচারণায় কোনো প্রকার পোস্টার ব্যবহার করা যাবে না এবং প্লাস্টিক, পলিথিন বা রেক্সিনের তৈরি ব্যানার ও ফেস্টুন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ডিজিটাল মাধ্যম ছাড়া অন্য সব প্রচার সামগ্রী (ব্যানার, লিফলেট) অবশ্যই সাদা-কালো রঙের হতে হবে।
এছাড়া কোনো দালান, দেয়াল, গাছ বা সরকারি স্থাপনায় লিফলেট লাগানো এবং দেয়ালে লিখন বা ছবি আঁকা দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। বাসে বা রিকশাসহ কোনো যানবাহনেও প্রচারণা সামগ্রী সাঁটানো যাবে না।প্রচারণার ধরন নিয়েও ইসি বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে। কোনো প্রকার যান্ত্রিক বাহন (বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেল) নিয়ে মিছিল বা শোডাউন করা যাবে না। এমনকি যেকোন ধরনের মশাল মিছিলের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। প্রচারণায় কোনো তোরণ বা গেট নির্মাণ করা যাবে না এবং উপাসনালয়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা সরকারি অফিসে প্রচারণা চালানো নিষিদ্ধ। জনসভায় ৩টির বেশি লাউড স্পিকার ব্যবহার করা যাবে না এবং সভার অন্তত ২৪ ঘণ্টা আগে পুলিশকে অবহিত করতে হবে।
আচরণবিধিতে ব্যক্তিগত চরিত্র হনন বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লাগে এমন বক্তব্য প্রদান থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। এছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে বলপ্রয়োগ বা অর্থ ব্যয় করা যাবে না। প্রতিটি সংসদীয় আসনে সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হয়েছে, যার আয়তন ১৬ ফুট বাই ৯ ফুটের বেশি হতে পারবে না। নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, এই আচরণবিধি লঙ্ঘন করলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ বজায় রাখতে সকল প্রার্থী ও রাজনৈতিক দলের সহযোগিতা কামনা করেছে ইসি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন