সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি: প্রধান উপদেষ্টা

জাতীয় ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ১৬, ২০২৬, ১০:০৪ পিএম

বিদায় নিতে আপনাদের সামনে এসেছি: প্রধান উপদেষ্টা

জাতির উদ্দেশে ড. ইউনূসের ভাষণ

১৮ মাসের দীর্ঘ দায়িত্ব পালন শেষে এবং একটি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের প্রাক্কালে জাতির উদ্দেশে বিদায়ী ভাষণ দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) রাত ৯টা ১৫ মিনিটে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারে তাঁর এই ভাষণ সরাসরি সম্প্রচার করা হয়। 

ভাষণে তিনি ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী অচল দেশ সচল করাকে তাঁর মেয়াদের সবচাইতে কঠিন কাজ হিসেবে অভিহিত করেন। ভাষণের শুরুতেই ড. ইউনূস ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের স্মৃতিচারণ করেন। 

তিনি দিনটিকে ‘মহা মুক্তির দিন’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, তরুণ ছাত্র-ছাত্রীরা দেশকে দানবের গ্রাস থেকে মুক্ত করেছিল। তিনি জানান, সেই সময় তিনি বিদেশে থাকলেও জাতির প্রতি কর্তব্য পালনের তাগিদে এবং ছাত্রনেতাদের অনুরোধে এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, “দেশ তখন সম্পূর্ণ অচল ছিল। অচল এই দেশটিকে কীভাবে সচল করা যাবে, সেটিই ছিল বড় সংকট। 

যারা দেশকে লুটেপুটে খেত, তারাই তখন রাষ্ট্রযন্ত্র চালাত এবং অভ্যুত্থানের পর তারা সবাই পালিয়ে গিয়েছিল।অধ্যাপক ইউনূস উল্লেখ করেন যে, গত ১৮ মাসে তাঁর সরকার একদিকে প্রশাসনকে দুর্নীতিমুক্ত করার চেষ্টা করেছে, অন্যদিকে সংস্কার কার্যক্রম চালিয়েছে। তিনি বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ব্যাপক সাংবিধানিক পরিবর্তনের জন্য ‘জুলাই সনদ’-এর ওপর গণভোট আয়োজন ছিল এই সময়ের অন্যতম বড় সাফল্য। তিনি এই নির্বাচনকে ‘ঈদের আমেজে’ অনুষ্ঠিত হওয়া একটি ঐতিহাসিক জনরায় হিসেবে বর্ণনা করেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়ী ও পরাজিত—উভয় পক্ষকেই অভিনন্দন জানান বিদায়ী প্রধান উপদেষ্টা। তিনি গণতন্ত্রের সৌন্দর্যের কথা উল্লেখ করে বলেন, “যারা জয়ী হয়েছেন তারা মোট ভোটের প্রায় অর্ধেক পেয়েছেন, আবার যারা জয়ী হতে পারেননি তারাও প্রায় অর্ধেক ভোটারের আস্থা অর্জন করেছেন। ফলে পরাজিতেরাও যেন হতাশ না হন।” তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাধ্যমেই তাঁর ১৮ মাসের এই অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের সমাপ্তি ঘটবে।

পরিশেষে, ড. মুহাম্মদ ইউনূস দেশের মানুষের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং একটি বৈষম্যহীন ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্নে বিভোর হয়ে কাজ করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান। তাঁর এই ভাষণটি ছিল মূলত নতুন গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে দেশকে এগিয়ে দেওয়ার এক শেষ নির্দেশনা।