মার্চ ৫, ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম
পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আগামী ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় এই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে কর্মসূচিটি নিবিড়ভাবে তদারকির জন্য অর্থ সচিবের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের সচিব কমিটি গঠন করা হয়েছে। সভায় কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশীদ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে এই কৃষক কার্ড কেবল একটি পরিচয়পত্র নয় বরং এটি দেশের প্রতিটি কৃষকের ন্যায্য অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক নিরাপত্তার প্রতীক হিসেবে কাজ করবে। এই কার্ডের মাধ্যমে ধাপে ধাপে কৃষকদের জন্য বিভিন্ন সরকারি সেবা ও সুবিধা নিশ্চিত করা হবে।
কৃষক কার্ডের আওতায় কৃষকেরা ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ সংগ্রহ, সরাসরি সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা গ্রহণ এবং সাশ্রয়ী মূল্যে আধুনিক কৃষিযন্ত্র ব্যবহারের সুযোগ পাবেন। এছাড়া সহজ শর্তে কৃষিঋণ, কৃষি বীমা, ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা এবং সরাসরি সরকারের কাছে কৃষিপণ্য বিক্রির সুযোগ তৈরি হবে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কৃষকরা আবহাওয়া, বাজার দর এবং ফসলের রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় পরামর্শও পাবেন।এই কর্মসূচির পরিধি শুধুমাত্র শস্য উৎপাদনকারী কৃষকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছে না।
দেশের মৎস্য চাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি এবং দুগ্ধ খামারিদেরও এই কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে। প্রাক-পাইলট পর্যায়ে আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে সব শ্রেণির কৃষকের প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এরপর দেশের আটটি বিভাগের নয়টি উপজেলার নয়টি ব্লকে প্রাথমিক পর্যায়ে এই কার্ড বিতরণ করা হবে। নির্বাচিত উপজেলাগুলোর মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল সদর, বগুড়ার শিবগঞ্জ, পঞ্চগড় সদর, জামালপুরের ইসলামপুর, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, পিরোজপুরের নেছারাবাদ, মৌলভীবাজারের জুড়ী, কুমিল্লা সদর এবং কক্সবাজারের টেকনাফ।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের অধীন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) এই বিশাল কর্মসূচি বাস্তবায়নের মূল দায়িত্বে থাকবে। এই উদ্যোগের ফলে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা গড়ে দুই হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি ভর্তুকি বা কৃষি উপকরণ সহায়তা পাবেন। এছাড়া খরিফ-১ ও খরিফ-২ মৌসুমে নির্দিষ্ট শ্রেণির কৃষকদের জন্য সরকার নির্ধারিত হারে বিশেষ আর্থিক অনুদান প্রদান করবে। সরকার আশা করছে যে প্রাক-পাইলট ও পাইলট পর্যায় সফলভাবে শেষ করে আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় এই কৃষক কার্ড কর্মসূচি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে। এটি গ্রামীণ অর্থনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন