বুধবার, ২১ অক্টোবর, ২০২৬,

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি সংশোধনের উদ্যোগ সরকারের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৫:৩৮ পিএম

আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ চুক্তি সংশোধনের উদ্যোগ সরকারের

আদানির সঙ্গে চুক্তি পর্যালোচনা

বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ভারতের আদানি পাওয়ার লিমিটেডের সাথে স্বাক্ষরিত বিদ্যুৎ চুক্তিটি অস্বাভাবিক মূল্যে করা হয়েছিল বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। বৃহস্পতিবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন। 

মন্ত্রী জানান, দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে করা এই চুক্তিটি বর্তমানে সংশোধন করার বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।সাংসদ শাহজাহান চৌধুরীর করা প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী আরও বলেন, ২০১৭ সালে সম্পাদিত এই চুক্তিটি পর্যালোচনার জন্য সুপ্রিম কোর্টের একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতির নেতৃত্বে একটি জাতীয় কমিটি গঠন করা হয়েছিল। 

ওই কমিটিতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিশেষজ্ঞ, আইনজ্ঞ, অর্থনীতিবিদ এবং চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। এছাড়া কমিটি আন্তর্জাতিক চুক্তি বিশেষজ্ঞদের আইনি মতামতও গ্রহণ করেছে। 

তাদের প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে, আদানির সাথে করা চুক্তির দর দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বাজারের তুলনায় অনেক বেশি।জাতীয় কমিটির সুপারিশ ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে সরকার এখন পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। মন্ত্রী জানান, এই চুক্তির বিষয়ে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতের দ্বারস্থ হওয়া অথবা আদানি পাওয়ারের সাথে সরাসরি আলোচনার মাধ্যমে চুক্তিটি সংশোধনের পথ খোলা রাখা হয়েছে। 

দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জনগণের অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই সরকার এই কৌশলগত পথগুলো খতিয়ে দেখছে।ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সংসদে আরও উল্লেখ করেন যে, বিগত সরকারের সময় বিদ্যুৎ খাতের অনেক সিদ্ধান্তই ছিল বিতর্কিত। আদানির সঙ্গে চুক্তিটিও সেই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। বর্তমান সরকার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে চায়। 

সে কারণেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী চুক্তিটি পুনর্মূল্যায়ন করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় জাতীয় কমিটির প্রতিবেদনকে প্রধান ভিত্তি হিসেবে ধরা হয়েছে বলে তিনি সংসদকে অবহিত করেন।জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সরকার প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে দ্বিধা করবে না বলেও মন্ত্রীর বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এই সংশোধন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দেশের বিদ্যুৎ খাতের ওপর আর্থিক চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা। দীর্ঘদিনের এই বিতর্কিত চুক্তি নিয়ে সরকারের এমন অবস্থান রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।