এপ্রিল ২, ২০২৬, ০৬:৫৬ পিএম
জাতীয় সংসদে আজ বৃহস্পতিবার বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে শব্দচয়ন নিয়ে এক উত্তপ্ত বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। পয়েন্ট অব অর্ডারে কথা বলতে গিয়ে ডা. শফিকুর রহমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে বলেন যে, তিনি সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন।
পাল্টা জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় হিসেবে উল্লেখ করে তা সংসদের কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার দাবি জানান। মূলত গতকালের একটি ঘটনার রেশ ধরেই আজ দুই নেতার মধ্যে এই বাক্যবিনিময় ঘটে।
বক্তব্য চলাকালীন জামায়াত আমির ব্যঙ্গাত্মক সুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান। তিনি মন্তব্য করেন যে, সালাহউদ্দিন আহমেদ বোতল পরিবর্তন করে কিন্তু ভেতরের উপাদান ঠিক রেখে তথ্য উপস্থাপনে বিশেষ দক্ষতার অধিকারী।
শফিকুর রহমানের অভিযোগ ছিল যে, গত বুধবার সংসদ থেকে বিরোধী দলের ওয়াকআউটের পর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর একটি বক্তব্যকে ‘অসত্য’ বলে অভিহিত করেছিলেন। সেই প্রসঙ্গের সূত্র ধরেই আজ তিনি সংসদে দাঁড়িয়ে নিজের অবস্থান পরিষ্কার করার চেষ্টা করেন এবং মন্ত্রীর তথ্যের সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। ডা. শফিকুর কিছুটা রসবোধের সাথে বলেন যে, মন্ত্রীকে এই অদ্ভুত ‘দক্ষতা’র জন্য তিনি অসংখ্য ধন্যবাদ জানাতে চান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ এর তাৎক্ষণিক প্রতিবাদ জানিয়ে বলেন যে, বিরোধীদলীয় নেতা সংসদে দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। তিনি যুক্তি দেন যে, ডা. শফিকুর যদি তাঁর বক্তব্যকে কেবল ‘অসত্য’ বলতেন তবে তাতে কোনো সংসদীয় আপত্তি থাকত না, কিন্তু সরাসরি ‘মিথ্যা’ শব্দটি ব্যবহার করা নিয়মের পরিপন্থী। তিনি দাবি করেন, গতদিনের অধিবেশনে বিধি-৬২ অনুযায়ী একটি মুলতবি প্রস্তাব নিয়ে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা নিরসনেই তিনি কথা বলেছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মতে, বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদ থেকে চলে যাওয়ার অনেক পরে ওই প্রস্তাবটি গৃহীত হয়েছিল, তাই বিরোধীদলীয় নেতার দেওয়া তথ্যটি ছিল সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে স্পিকার মেজর হাফিজ উদ্দিন আহমেদ হস্তক্ষেপ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করেন। তিনি জামায়াত আমিরকে মনে করিয়ে দেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার সাধারণত বর্তমান বা চলমান কোনো জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে হওয়া উচিত।
গতকালের কোনো পুরনো প্রসঙ্গ নিয়ে নতুন করে অধিবেশনে বিতর্ক তোলা সংসদীয় রীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। তবে বিরোধীদলীয় নেতা আবারও তাঁর বক্তব্যে অটল থেকে দাবি করেন যে, একই বিষয়ে ভিন্ন নামে একজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রস্তাবটি এনেছিলেন এবং তিনি কোনো ভুল তথ্য প্রদান করেননি। সংসদের এই উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় উপস্থিত সদস্যদের মধ্যে বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন