এপ্রিল ৫, ২০২৬, ০২:৩৩ পিএম
র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন বা র্যাবের নাম পরিবর্তন কিংবা এই সংস্থাটি ভবিষ্যতে থাকবে কি না, তা সম্পূর্ণভাবে সরকারের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে বলে জানিয়েছেন বাহিনীটির মহাপরিচালক মো. আহসান হাবীব পলাশ। তবে দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার স্বার্থে এই বিশেষায়িত বাহিনীটির প্রয়োজনীয়তা রয়েছে বলে ব্যক্তিগত মত প্রকাশ করেছেন তিনি।
দায়িত্ব গ্রহণের পর রোববার দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন। প্রথমবারের মতো সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে র্যাব মহাপরিচালক বাহিনীর সংস্কার ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
র্যাবের পুনর্গঠন কিংবা নাম পরিবর্তনের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে আহসান হাবীব পলাশ জানান, এগুলো মূলত সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো নির্দেশনা এলে তা বাস্তবায়ন করা হবে।
র্যাবের পক্ষ থেকে আলাদাভাবে কোনো উদ্যোগ নেওয়ার প্রয়োজন নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে বাহিনীর মূল লক্ষ্য হচ্ছে পেশাদারিত্বের সঙ্গে অর্পিত দায়িত্ব পালন করা।মানবাধিকার লঙ্ঘন ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ প্রসঙ্গে মহাপরিচালক স্পষ্ট করে বলেন, বাহিনীর ভেতরে কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা নিজস্ব ব্যবস্থায় গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হয়। এ ক্ষেত্রে কাউকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়ার সুযোগ নেই। নিয়মিত স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে র্যাবের বিরুদ্ধে অতীতে ওঠা বিভিন্ন নেতিবাচক অভিযোগ কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
র্যাবের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, এটি একটি বিশেষায়িত শক্তি এবং সার্বিক আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের অংশ হিসেবে সমন্বিতভাবে কাজ করে। বাইরে থেকে অনেক সময় ভিন্ন ধারণা তৈরি হলেও বাস্তবে র্যাব একটি অত্যন্ত সংগঠিত ও কাঠামোবদ্ধ বাহিনী। ভবিষ্যতে র্যাবকে আরও বেশি পেশাদার, মানবিক ও প্রযুক্তিনির্ভর হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।
ক্রসফায়ার সংক্রান্ত মামলার তথ্য সরবরাহ নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মহাপরিচালক জানান, বিচারিক প্রক্রিয়ার প্রয়োজনে যেকোনো সাংবিধানিক বা আইনি সংস্থা তথ্য চাইলে র্যাব সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে। আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব নথি ও তথ্য সরবরাহ করতে সংস্থাটি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে যেসব তথ্য সংস্থার কাছে নেই বা দেওয়ার সক্ষমতার বাইরে, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে যথাযথভাবে অবহিত করা হবে।
র্যাবের ওপর আন্তর্জাতিক মহলের নিষেধাজ্ঞা ও বিভিন্ন সংগঠনের সমালোচনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ পথচলায় বাহিনীতে কিছু বিচ্যুতি বা ত্রুটি থাকতে পারে। তবে সেসব ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরিস্থিতি উন্নয়নের চেষ্টা চলছে। গত দেড় বছরে র্যাবের কার্যক্রমে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলে দাবি করেন তিনি। ধারাবাহিকভাবে ভালো কাজের মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনই এখন সংস্থাটির প্রধান লক্ষ্য।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন