এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০২:১৮ পিএম
অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল নিজের মেয়াদে গৃহীত আইনি সংস্কার কার্যক্রম নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। সোমবার দুপুরে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক দীর্ঘ স্ট্যাটাসে তিনি দাবি করেছেন যে, তার দায়িত্ব পালনকালে প্রণীত আইনগুলোই ছিল মূলত দেশের প্রকৃত সংস্কার।
একই সঙ্গে এই সংস্কারমূলক কাজগুলো সম্পন্ন করতে গিয়ে তাকে সরকারের ভেতরকার নানা প্রতিকূলতা এবং অন্তর্কোন্দলের মুখোমুখি হতে হয়েছিল বলেও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিয়েছেন তিনি।
আসিফ নজরুল তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে, দায়িত্ব পালনকালে মানবাধিকার কমিশন, গুম বিরোধী আইন, সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় স্থাপন, উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগ এবং দুর্নীতি দমন কমিশন বা দুদক আইনের মতো বেশ কিছু উচ্চাভিলাষী আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল।
সেই সময় অনেক সমালোচক এই উদ্যোগগুলোকে নাকচ করে দিয়েছিলেন এবং সরকারকে ‘অধ্যাদেশের সরকার’ বলে ব্যঙ্গ করেছিলেন। এমনকি কেউ কেউ মন্তব্য করেছিলেন যে, এসব আইন করার অধিকার কেবল নির্বাচিত সরকারের রয়েছে। তবে বর্তমানে সাধারণ মানুষের দাবির মুখে এই আইনগুলোর প্রয়োজনীয়তা আবারও সামনে আসায় তিনি সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।
সাবেক এই উপদেষ্টা তার মেয়াদে করা কাজগুলোর পেছনের শ্রমের কথা তুলে ধরে জানান, আইন মন্ত্রণালয়ের একদল মেধাবী কর্মকর্তাদের নিয়ে গঠিত একটি বিশেষ টিম দিনরাত এই গবেষণামূলক কাজগুলো সম্পন্ন করেছে। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা, পরামর্শ গ্রহণ এবং বারবার ড্রাফট পরিমার্জনের মাধ্যমে আইনগুলো চূড়ান্ত করা হয়েছিল। তবে এই পথ সহজ ছিল না। তিনি অভিযোগ করেন যে, সরকারের ভেতরকার প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে তাকে প্রতিনিয়ত লড়াই করতে হয়েছে।
বিশেষ করে সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন পাসের জন্য তাকে এক পর্যায়ে পদত্যাগের হুমকি পর্যন্ত দিতে হয়েছিল।পোস্টের শেষ দিকে আসিফ নজরুল বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, তাদের এই কঠোর শ্রম বিফলে যাবে না। বর্তমানে মানুষ যখন এই আইনগুলোকে প্রকৃত সংস্কার হিসেবে চিহ্নিত করছে এবং এগুলো বহাল রাখার দাবি তুলছে, তখন এটি তার কাছে বড় সার্থকতা বলে মনে হচ্ছে।
তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার মেয়াদে শুধু আইন মন্ত্রণালয় নয়, বরং রাজস্ব, আর্থিক ব্যবস্থাপনা, তথ্য-প্রযুক্তি এবং পরিবেশ বিষয়ক অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ ও ভালো অধ্যাদেশ জারি হয়েছে। এই সংস্কারগুলো দেশের ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় এবং এগুলো থেকে পিছিয়ে আসা বর্তমান বা ভবিষ্যতের কারোর পক্ষে সম্ভব হবে না বলেও তিনি মন্তব্য করেন। তার এই স্ট্যাটাসটি অনলাইনে প্রকাশের পরপরই রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন