এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম আরও সুচারু ও সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্যে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দি পিপলস (অ্যামেন্ডমেন্ট) বিল-২০২৬’ সহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাস হয়েছে। আজ সোমবার ৬ এপ্রিল জাতীয় সংসদে কণ্ঠভোটের মাধ্যমে আরপিও সংশোধনী বিলের পাশাপাশি ভোটার তালিকা সংশোধন বিল এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয় সংশোধন বিলটিও পাস করা হয়।
বিকেলবেলায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে শুরু হওয়া অধিবেশনটিতে বিলগুলো পাসের প্রস্তাব উত্থাপন করেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান।
অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আরপিওর ২৭, ৩৭, ৩৯, ৮৯ ও ৯১ অনুচ্ছেদ সংশোধনের উদ্দেশ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত তিনটি অধ্যাদেশকে স্থায়ী আইন হিসেবে পাস করার প্রস্তাব দেন। এর আগে নির্বাচন পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনা এবং পোস্টাল ব্যালট পেপারের বিষয়টি আরও স্পষ্টীকরণের জন্য বিগত সরকার এই অধ্যাদেশগুলো জারি করেছিল।
এ ছাড়া নির্বাচনি নিরাপত্তা জোরদার করার লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বেশ কিছু সংশোধনও এই বিলে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে যা আজ থেকে পূর্ণাঙ্গ আইনে পরিণত হলো।বিলটি পাসের প্রেক্ষাপট বর্ণনা করে আইনমন্ত্রী সংসদকে জানান যে নির্বাচন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনার সুবিধার্থে ‘রিপ্রেজেন্টেশন অফ দি পিপল অর্ডার ১৯৭২’ সংশোধন করে ইতিপূর্বে ২০২৫ সালে দুটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। সংবিধানের ৯৩ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী তেরোতম জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে এই অধ্যাদেশগুলো উপস্থাপন করা বাধ্যতামূলক ছিল।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী সংসদের প্রথম বৈঠকের ৩০ দিনের মধ্যে অধ্যাদেশগুলো বিল আকারে পাস করার বাধ্যবাধকতা থেকেই আজ এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।পাসকৃত বিলের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ভোটার হওয়ার তারিখ নির্ধারণ। এখন থেকে প্রতি বছর জানুয়ারি মাসের ১ তারিখের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশন ঘোষিত অন্য যেকোনো তারিখেও ভোটার হওয়ার যোগ্য ব্যক্তিরা তালিকাভুক্ত হতে পারবেন। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই বিশেষ বিধানটি যুক্ত করে অধ্যাদেশ জারি করেছিল যা আজ সংসদীয় স্বীকৃতি পেল।
মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন যে এই নতুন আইনি কাঠামোর ফলে ভবিষ্যতে জাতীয় সংসদ নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সকল কার্যক্রম আগের তুলনায় আরও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।সংসদে বিলটি পাসের আগে এর ওপর সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনার শুরুতে বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান বিলের একটি শব্দের অস্পষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।
তিনি বিলের ৪৯ নম্বর পৃষ্ঠার একটি উপধারায় ‘সিট’ শব্দের পরিবর্তে ‘কনস্টিটিউেন্সি’ শব্দ ব্যবহারের যৌক্তিকতা নিয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এই বিষয়ে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ও আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামানের মধ্যে সংক্ষিপ্ত কথোপকথন হয় এবং মন্ত্রী বিষয়টি পর্যালোচনার আশ্বাস দেন। শেষ পর্যন্ত স্পিকারের ঘোষণায় সর্বসম্মতিক্রমে বিলগুলো পাস হয় যা দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়ায় একটি গুরুত্বপূর্ণ আইনি সংস্কার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন