বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর, ২০২৬,

হাসিনাকে কেন দিল্লিতে আশ্রয়? মোদিকে প্রশ্ন অভিষেকের

জাতীয় ডেস্ক

এপ্রিল ১১, ২০২৬, ০৯:৫৪ এএম

হাসিনাকে কেন দিল্লিতে আশ্রয়? মোদিকে প্রশ্ন অভিষেকের

পশ্চিমবঙ্গে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তাপ ক্রমশ বাড়ছে এবং এবার সেই বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছেন বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তৃণমূল কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় গতকাল শুক্রবার ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারকে বিঁধে এক কড়া বক্তব্য দিয়েছেন।

নরেন্দ্র মোদি সরকারকে লক্ষ্য করে তার প্রশ্নটি ছিল অত্যন্ত সরাসরি— গত দেড় বছর ধরে ঠিক কেন শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে আশ্রয় দিয়ে রাখা হয়েছে? একই সঙ্গে এই দীর্ঘ অবস্থানের পেছনে ভারতের কোনো বড় শিল্পপতির স্বার্থ কাজ করছে কি না, সেই প্রশ্নও তুলেছেন তিনি।

তৃণমূলের এই হেভিওয়েট নেতার মতে শেখ হাসিনাকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি কেবল দ্বিপক্ষীয় কূটনৈতিক সম্পর্কের সাধারণ কোনো বিষয় নয়। অভিষেক ইঙ্গিত দিয়েছেন যে এর পেছনে গভীর কোনো অর্থনৈতিক বা করপোরেট সমীকরণ থাকতে পারে। 

তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন ভারতের নির্দিষ্ট কোনো শিল্পগোষ্ঠী বা আদানি-আম্বানির মতো বড় কোনো ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের স্বার্থ রক্ষা করতেই কি মোদি সরকার এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে? তার দাবি বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ভারতের এই ধরনের অবস্থান বা হাসিনাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার পেছনে আসলে বড় করপোরেট স্বার্থই মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে।তৃণমূল নেতার এই আক্রমণের পটভূমি বর্তমানে ভারতের রাজনীতির জন্য বেশ তাৎপর্যপূর্ণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। 

উল্লেখ্য যে দেড় বছর আগে বাংলাদেশে ছাত্র-জনতার এক নজিরবিহীন অভ্যুত্থানে ক্ষমতা হারিয়ে শেখ হাসিনা ভারতে চলে আসেন। সে সময় ভারত সরকার মানবিক কারণে তাকে সাময়িক আশ্রয় দেওয়ার কথা বলেছিল। তবে দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ার পরও তার অবস্থান নিয়ে কোনো সুরাহা না হওয়ায় ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এই সুযোগটিকেই কাজে লাগিয়ে মোদি সরকারের ‘প্রতিবেশী প্রথম’ বা নেইবারহুড ফার্স্ট নীতির কড়া সমালোচনা করেছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন পশ্চিমবঙ্গের ভোটারদের মধ্যে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট সবসময়ই একটি সংবেদনশীল বিষয়। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই করপোরেট সংযোগের তত্ত্ব সাধারণ মানুষের মনে নতুন করে সন্দেহের দানা বাঁধতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের বড় প্রকল্পগুলোতে ভারতীয় কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগের ভবিষ্যৎ এবং শেখ হাসিনার অবস্থানের মধ্যে কোনো যোগসূত্র আছে কি না, তা নিয়ে এখন দিল্লির রাজনীতির অন্দরেও কানাঘুষা চলছে। মোদি সরকার অবশ্য এখন পর্যন্ত অভিষেকের এই অভিযোগের বিপরীতে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে নির্বাচনের আগে হাসিনাকে কেন্দ্র করে এই বিতর্ক যে সহজে থামছে না, তা অনেকটা নিশ্চিত।