এপ্রিল ১৪, ২০২৬, ১০:০৭ পিএম
আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়াগামী একটি বড় ট্রলারডুবির ঘটনায় অন্তত ২৫০ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে বাংলাদেশি নাগরিক ছাড়াও বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গা শরণার্থী রয়েছেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) এক যৌথ বিবৃতিতে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার তথ্য নিশ্চিত করে গভীর শোক প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
প্রাথমিক তথ্যানুযায়ী, ট্রলারটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় টেকনাফ উপকূল থেকে অবৈধভাবে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। গত কয়েক দিন আগে যাত্রা শুরু করা এই ট্রলারটির যাত্রীদের অধিকাংশ ছিলেন টেকনাফের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরের রোহিঙ্গা এবং উন্নত জীবনের সন্ধানে যাওয়া কিছু বাংলাদেশি নাগরিক।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, ট্রলারটি তার নির্দিষ্ট ধারণক্ষমতার তুলনায় কয়েকগুণ বেশি যাত্রী বোঝাই ছিল।যাত্রা শুরুর কয়েক দিন পর গভীর সমুদ্রে আন্দামান সাগরের নিকটবর্তী এলাকায় পৌঁছালে ট্রলারটি প্রচণ্ড ঝোড়ো বাতাস ও উত্তাল ঢেউয়ের কবলে পড়ে।
ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী থাকায় ভারসাম্য হারিয়ে ট্রলারটি মাঝসমুদ্রেই ডুবে যায়। দুর্ঘটনার পর থেকে নিখোঁজদের উদ্ধারে ওই অঞ্চলের সংশ্লিষ্ট কোস্টগার্ড ও নৌবাহিনী অনুসন্ধান শুরু করলেও প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে উদ্ধারকাজ চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। দীর্ঘ সময় পার হয়ে যাওয়ায় নিখোঁজ ২৫০ জনের বেঁচে থাকার সম্ভাবনা অত্যন্ত ক্ষীণ বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইউএনএইচসিআর ও আইওএম তাদের বিবৃতিতে সমুদ্রপথে এই বিপজ্জনক যাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে পুনরায় কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছে। মানবপাচারকারীদের প্রলোভনে পড়ে এভাবে জীবন বাজি না রাখতে সাধারণ মানুষকে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থা দুটি। একই সাথে বঙ্গোপসাগর ও আন্দামান সাগরে এ ধরনের প্রাণহানি রোধে নিয়মিত অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানের ওপর জোর দেওয়ার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর প্রতি জরুরি অনুরোধ জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন