এপ্রিল ২২, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম
ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বরকে ‘জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রাষ্ট্রীয়ভাবে পালিত গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় ও আন্তর্জাতিক দিবসগুলোর তালিকায় এই দিনটিকে এখন থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ‘ক’ শ্রেণিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার সরকারের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি সংশোধিত পরিপত্র জারি করা হয়।
নতুন এই নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে প্রতি বছর ৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসটি ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত দিবস হিসেবে পালিত হবে। এর আগে গত ১১ মার্চ দিবস পালন সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করেছিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
সেখানে ৭ নভেম্বরের এই দিবসটি অন্তর্ভুক্ত ছিল না। মঙ্গলবারের নতুন এই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে আগের সেই তালিকার নির্দিষ্ট স্থানে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসটিকে সন্নিবেশিত করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও সংস্থাকে এই সিদ্ধান্ত যথাযথভাবে পালন করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
রাজনৈতিক পটভূমি বিবেচনায় এই সিদ্ধান্তটি বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের দীর্ঘ দেড় দশকের শাসনামলে ৭ নভেম্বরের কোনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ছিল না। মূলত ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর সংঘটিত সিপাহি-জনতা বিপ্লবের স্মরণে এই দিনটি পালিত হয়। ঐতিহাসিক সেই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল জিয়াউর রহমান বন্দিদশা থেকে মুক্তি পান এবং পরবর্তীতে দেশের রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হন। বিএনপি সরকারের আমলগুলোতে এই দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে পালনের পাশাপাশি সরকারি ছুটি হিসেবেও কার্যকর ছিল।
তবে এই দিবসটি নিয়ে দেশের রাজনৈতিক মহলে দীর্ঘকাল ধরে বিপরীতমুখী অবস্থান লক্ষ্য করা গেছে। জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দল বিএনপি ও তাদের সমমনা শক্তিগুলো এটিকে বিপ্লব ও সংহতি দিবস হিসেবে পালন করলেও আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন বামপন্থী রাজনৈতিক সংগঠন এর কড়া সমালোচনা করে থাকে। ওই অভ্যুত্থান চলাকালীন খালেদ মোশাররফসহ বেশ কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তারা এই দিনটিকে ‘মুক্তিযোদ্ধা সৈনিক হত্যা দিবস’ হিসেবে অভিহিত করে আসছিল। সরকারের নতুন এই পরিপত্রের ফলে দিবসটি এখন আবারও জাতীয় দিবসের পূর্ণ মর্যাদা ফিরে পেল।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন