এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ১১:৪৫ এএম
আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে দেশের শতভাগ শিশুকে হামের টিকার আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সকালে রাজধানীর শ্যামলীতে টিবি হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান। জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির জন্য যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও শিশুদের যক্ষ্মা প্রতিরোধের ঔষধ হস্তান্তর উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ৬ লাখ জিনএক্সপার্ট কার্টিজ ও ১১ হাজার শিশুর যক্ষ্মা প্রতিরোধী ঔষধ হস্তান্তর করা হয়েছে, যা দেশের যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। ভ্যাক্সিন ও সিরিঞ্জের কোনো সংকট নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, আগামীকালকের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী দেশের সব কেন্দ্রে পৌঁছে যাবে।
পোলিও ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে প্রকাশিত একটি সংবাদের প্রতিবাদ জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, মিরপুর নগর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে পোলিও ভ্যাকসিন সংকট নিয়ে বুধবার একটি খবর প্রকাশিত হয়েছে। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়েছি।
সেখানে একজন রোগী ভ্যাকসিন পেলেও যাওয়ার সময় তা সঙ্গে নেননি এবং পরে এসে পোলিও ভ্যাকসিন নেই বলে দাবি করেছেন। সাংবাদিক হয়তো পুরো বিষয়টি না শুনে ভুলভাবে নিউজ করেছেন। বর্তমানে দেশে পোলিও ভ্যাকসিনের কোনো সংকট নেই এবং মন্ত্রণালয়ের কাছে এর সব হিসাব রয়েছে।গত দেড় দশকের স্বাস্থ্য খাতের অব্যবস্থাপনা নিয়ে সাখাওয়াত হোসেন বলেন, টাকা থাকলেও গত ১৭ বছর এসব ব্যবস্থাপনা নিয়ে কোনো কাজ হয়নি এবং ঠিকমতো কোনো কিছু বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা এখন সবকিছু স্বাভাবিক করার চেষ্টা চালাচ্ছি।
হামের সংক্রমণ ও টিকাদান সম্পর্কে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, গত ছয় বছর হাম প্রতিরোধে শিশুদের কোনো ভ্যাক্সিনেশন হয়নি। সরকার বর্তমানে জরুরি ভিত্তিতে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। ইউনিসেফ, গ্যাভি, ওয়ার্ল্ড ব্যাংক ও আমেরিকার সহায়তা না পেলে দেশের পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারত বলে তিনি উল্লেখ করেন।
টিকাদান কার্যক্রমের অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, আগামী মাসের পাঁচ তারিখে সারা দেশে ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা থাকলেও তা ১৪ দিন এগিয়ে আনা হয়েছে। গত ২০ এপ্রিল থেকেই কাজ শুরু করা হয়েছে। এ পর্যন্ত লক্ষ্যমাত্রার ৬১ শতাংশ কাভার করা সম্ভব হয়েছে এবং আগামী এক সপ্তাহে তা শতভাগে পৌঁছাবে। ইতোমধ্যে অনেক এলাকায় শতভাগ টিকাদান সম্পন্ন হয়েছে এবং প্রথম ৩০টি উপজেলায় এখন একজনও হামের রোগী নেই।
ডেঙ্গু পরিস্থিতি ও রোগীদের চাপ সামলানো প্রসঙ্গে মন্ত্রী জানান, রোগীর চাপ বাড়লে তা সামাল দিতে তাঁবুর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। শুক্রবার থেকে ইউনিভার্সিটি প্লেগ্রাউন্ডে তাঁবু স্থাপন শুরু হবে। তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার চেয়ে রোগ প্রতিরোধ করা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এ কারণে মশক নিধনে সিটি করপোরেশনকে কার্যকর ভূমিকা পালনের জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন