রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা বদলাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মে ১২, ২০২৬, ১২:২৩ পিএম

প্রযুক্তির সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থা বদলাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী

প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে বদলে ফেলার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, জ্ঞান এখন আর কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বিভিন্ন বিষয়ের সমন্বয়েই নতুন নতুন ক্ষেত্র তৈরি হচ্ছে।মঙ্গলবার (১২ মে) বেলা ১১টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট ভবনে এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। 

বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি) আয়োজিত ‘বাংলাদেশে উচ্চশিক্ষার রূপান্তর’ বিষয়ক কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি।তারেক রহমান বলেন, সীমিত সম্পদের সঠিক ব্যবহার ও সঠিক পরিকল্পনার মাধ্যমেই বড় পরিবর্তন আনা সম্ভব। 

মেধা পাচার রোধ করে দেশের ভেতরেই মেধার বিকাশ ঘটানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, একটি জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে শিক্ষা ও গবেষণাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।প্রাথমিক স্তর থেকে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত দেশের শিক্ষা কারিকুলাম সময়োপযোগী করে সাজানো এখন সময়ের দাবি বলে উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। 

তিনি বলেন, নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন কর্মমুখী শিক্ষা ছাড়া বেকারত্ব নিরসন সম্ভব নয়। আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থা ছাড়া বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকে থাকা কঠিন হবে।বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‍্যাঙ্কিং প্রসঙ্গে সরকারপ্রধান বলেন, একবিংশ শতাব্দীতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের অবস্থান এখনো প্রত্যাশিত উচ্চতায় পৌঁছাতে পারেনি। উদ্ভাবন ও গবেষণা প্রকাশনার মান বৃদ্ধিতে শিক্ষাবিদদের আরও গভীরভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।শিক্ষার্থীদের দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ শিক্ষার্থী বের হলেও উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারত্বের হার বেশি। এর অন্যতম কারণ হলো একাডেমিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় দক্ষতার অভাব। 

এ সমস্যা সমাধানে সরকার এপ্রেন্টিসশিপ, ইন্টার্নশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সহযোগিতা বৃদ্ধির উদ্যোগ নিয়েছে।প্রধানমন্ত্রী জানান, ক্যাম্পাসভিত্তিক উদ্যোক্তা তৈরি করতে ইনোভেটিভ বিজনেস আইডিয়া বাণিজ্যিকীকরণের জন্য সিড ফান্ডিং বা ইনোভেশন গ্রান্ট দেওয়ার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা চাকরির অপেক্ষা না করে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারবে। এছাড়া উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে ‘উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন ইনস্টিটিউট’ এবং ‘সায়েন্স পার্ক’ প্রতিষ্ঠার পরিকল্পনা করছে সরকার।

চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, অটোমেশন ও ডাটা সায়েন্সের মতো প্রযুক্তিগুলোকে গ্রহণ করার ওপর জোর দেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, বিশ্ব এখন বহুমাত্রিক জ্ঞানের যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে প্রযুক্তির সঙ্গে সমাজবিজ্ঞান বা জীববিজ্ঞানের সমন্বয় ঘটছে।

বক্তব্যের শেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দেশে গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এই সরকার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও মেধানির্ভর বাংলাদেশ গড়তে দায়বদ্ধ। প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ গ্রহণের পাশাপাশি ধর্মীয়, সামাজিক ও নৈতিক মূল্যবোধ ধরে রাখার জন্য তিনি শিক্ষক ও সচেতন মহলের প্রতি আহ্বান জানান।