রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

হামের একটি টিকাও আমাদের হাতে ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

মে ১৭, ২০২৬, ০৬:০৭ পিএম

হামের একটি টিকাও আমাদের হাতে ছিল না: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি - সংগৃহীত

বর্তমান সরকার দায়িত্ব নেওয়ার সময় দেশে হামের টিকার কোনো মজুত ছিল না বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। আজ রোববার (১৭ মে) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই তথ্য জানান। ‘হাম ও ডেঙ্গুরোগ নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা ও প্রতিরোধই সর্বোত্তম পন্থা’ শীর্ষক জনসচেতনতা সপ্তাহের উদ্বোধনী সেমিনারে তিনি এই কথা বলেন।

বিগত ২০২০ সালের ডিসেম্বরের পর থেকে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার আগপর্যন্ত দেশে নিয়মিত হামের টিকাদান কর্মসূচি পুরোপুরি বন্ধ ছিল।টিকার এই দীর্ঘমেয়াদি তীব্র ঘাটতিই মূলত বর্তমান হামের প্রাদুর্ভাবের মূল কারণ বলে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। 

তিনি জানান, ইউনিসেফের বিশেষ সহযোগিতায় দেশের আক্রান্ত জেলা, উপজেলা এবং সিটি করপোরেশনগুলোতে এখন ব্যাপকভাবে টিকাদান কর্মসূচি চালানোর পর হামের প্রকোপ কিছুটা কমতে শুরু করেছে। বর্তমানে প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাইকিং করে খুঁজে খুঁজে বাদ পড়া শিশুদের জরুরি ভিত্তিতে টিকা দেওয়া হচ্ছে। 

এর পাশাপাশি রোগটি থেকে মুক্তি পেতে যথাযথ আইসোলেশন ও পুষ্টি নিশ্চিতের ওপর জোর দেন তিনি। চলতি মৌসুমে হামের প্রাদুর্ভাব অতিমাত্রায় বাড়ার জন্য মায়েদের পুষ্টিহীনতা ও সচেতনতার অভাবকেও দায়ী করা হয়েছে।ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব) আয়োজিত এই বৈজ্ঞানিক সেমিনারে চিকিৎসকদের ওপর সাম্প্রতিক হামলার ঘটনারও তীব্র নিন্দা জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে চিকিৎসকেরা জানান, ভাইরাসজনিত এই রোগ প্রতিরোধে শিশুদের সময়মতো টিকা দেওয়ার পাশাপাশি আক্রান্ত রোগীকে সম্পূর্ণ আলাদা রাখতে হবে। 

দেশের ডেঙ্গু ও হামের সংক্রমণ রোধে সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়েও ইতিমধ্যে বিশেষ চিকিৎসাসেবা ও বিশেষায়িত ইউনিট চালু করা হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে আমলাতান্ত্রিক নির্ভরতা কমিয়ে রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।