মে ২০, ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর আলোচনার মধ্যেই নতুন প্রস্তাব এসেছে। এবার বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জ বা হুইলিং চার্জ বাড়ানোর আবেদন করেছে পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসি। বুধবার রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে এক গণশুনানিতে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়।বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের কাছে প্রতি ইউনিটে চার্জ ৩০ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ৪৯ পয়সা করার আবেদন করেছে সংস্থাটি।
এই প্রস্তাব অনুযায়ী বিদ্যুতের সঞ্চালন চার্জ প্রায় ৬০ শতাংশ বাড়তে পারে। পিজিসিবি তাদের খরচের নানা খাতের কথা শুনানিতে তুলে ধরেছে। বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করতে এই মূল্য সমন্বয় জরুরি বলে তারা দাবি করে।
গ্রিড পরিচালনা ও দেশি-বিদেশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের আর্থিক সক্ষমতা বাড়ানোর কথাও সেখানে বলা হয়েছে।এই প্রস্তাব অনুমোদন পেলে শেষ পর্যন্ত সাধারণ গ্রাহকের ঘাড়েই বাড়তি দামের বোঝা চাপবে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
একই গণশুনানিতে পাইকারি পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর প্রস্তাব দেয় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড। সংস্থাটি প্রতি ইউনিটে ১ টাকা ২০ পয়সা থেকে ১ টাকা ৫০ পয়সা পর্যন্ত দাম বাড়াতে চায়। পিডিবির প্রধান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম শুনানিতে তাদের বিশাল ঘাটতির কথা তুলে ধরেন। চলতি অর্থবছরে তাদের ঘাটতি প্রায় ৬২ হাজার কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে তা ৬৫ হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও ভোক্তা অধিকার সংগঠন ক্যাবের নেতারা দাম বাড়ানোর এই উদ্যোগের তীব্র বিরোধিতা করেছেন।
বিদ্যুৎ খাতের অপচয় ও অনিয়মের দায় সরাসরি গ্রাহকের ওপর চাপানো হচ্ছে বলে তাদের অভিযোগ। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের উচ্চমূল্যের বাজারে নতুন করে দাম বাড়লে তা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরও কঠিন করবে। শিল্প ও উৎপাদন খাতেও এর বড় প্রভাব পড়বে। গ্রাহক পর্যায়ে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে বৃহস্পতিবার আলাদা একটি গণশুনানি করবে বিইআরসি।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন