রবিবার, ১১ অক্টোবর, ২০২৬,

আলোচনায় হাসিনার অনুগত সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি

জাতীয় ডেস্ক

মে ২১, ২০২৬, ০৯:৪০ এএম

আলোচনায় হাসিনার অনুগত সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি

জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে নিরাপদে পৌঁছাতে ভূমিকা রাখা সেনা কর্মকর্তাদের অন্যতম কর্নেল জিএম রাজিব আহমেদকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। শেখ হাসিনা ও জেনারেল তারিক আহমেদ সিদ্দিকের অত্যন্ত অনুগত হিসেবে পরিচিত এই বিতর্কিত সেনা কর্মকর্তার পদোন্নতি নিয়ে সেনাবাহিনীতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে। 

নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্তে বাহিনীর ভেতরে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।বিগত সাড়ে ১৫ বছরে বঞ্চিত দেশপ্রেমিক সেনা কর্মকর্তাদের মাঝে এ নিয়ে ক্ষোভ বিরাজ করছে।

তাদের প্রশ্ন, ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে এই কর্মকর্তার চাকরি বহাল থাকার পরিবর্তে কীভাবে পদোন্নতি হলো। এই ঘটনা সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার পাশাপাশি জুলাই আন্দোলনের পক্ষের শক্তির কাছে ভুল বার্তা দেবে বলে মনে করছেন তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মেও বিষয়টি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা চলছে।

পদোন্নতির নেপথ্যে সরকারের উচ্চপর্যায়ে কর্মরত একজন প্রভাবশালী সামরিক কর্মকর্তার প্রভাব রয়েছে বলে জানা গেছে।ওই কর্মকর্তা বিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একই পদে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। তার সুপারিশেই বিতর্কিত রাজিব আহমেদ শান্তিরক্ষা মিশনের মতো প্রাইজ পোস্টিং পেয়েছিলেন। টিম কমান্ডার হিসেবে দক্ষিণ সুদানে দায়িত্ব পালনের পর সম্প্রতি তিনি দেশে ফেরেন। গত মঙ্গলবার তাকে কর্নেল থেকে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল পদে পদোন্নতি দেওয়ার সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়।

প্রতিরক্ষা সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের আগস্টে কর্নেল রাজিব তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সহকারী সামরিক সচিব হিসেবে যোগ দেন। পরে তাকে উপ-সামরিক সচিব হিসেবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পদায়ন করা হয়েছিল। হাসিনা ছাড়াও তার বোন রেহানা এবং মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের অত্যন্ত বিশ্বস্ত ছিলেন তিনি। আওয়ামী সমর্থক হিসেবে পরিচিত এই কর্মকর্তাকে সেই সময় সরকারের স্পর্শকাতর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

শেখ হাসিনাকে দিল্লিতে পালিয়ে যেতে সহায়তা করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।একটি সামরিক সূত্র জানালেও অন্য একটি সূত্র বলছে, তিনি ঢাকা থেকে প্রভাবশালী মন্ত্রীদের নিরাপদ হেফাজতে রাখার প্রক্রিয়ায় সরাসরি যুক্ত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, জুলাই আন্দোলনে যখন ছাত্র-জনতার ওপর দমন-পীড়ন তুঙ্গে ছিল, তখন শেখ হাসিনা এই রাজিবের মাধ্যমেই নির্দেশনা দিতেন। ৫ আগস্টের পর একটি অডিও কথোপকথন ভাইরাল হয়, যেখানে হাসিনা স্বয়ং ফোন করে বিভিন্ন এলাকায় জমায়েত হওয়া জনতাকে শুরুর দিকেই দমন করার কঠোর নির্দেশ দেন।

এই পরিস্থিতিতে পদোন্নতির বিষয়টি জুলাই আন্দোলনের চেতনার পরিপন্থী বলে মনে করছেন অনেকে।পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জুলাই বিপ্লবের হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। এই ঘটনার তদন্ত এবং এর নেপথ্যে যারা কলকাঠি নাড়ছেন, তাদের পরিচয় নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বঞ্চিত কর্মকর্তারা। সেনাবাহিনীর ভাবমূর্তি বজায় রাখতে এবং জনমতকে সম্মান জানাতে এই সিদ্ধান্তের পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না— তা এখন আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।