শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

জুন ২৯, ২০২৬, ০২:৩৪ পিএম

যে কোনো মূল্যে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হবে: প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের স্বার্থে সুদূরপ্রসারী ও জনকল্যাণমুখী এক বিশেষ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার বেলা পৌনে ১২টার দিকে সংসদে বক্তব্য প্রদানকালে তিনি স্পষ্ট জানান, উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের ভাগ্য পরিবর্তনে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যে কোনো মূল্যে বহুল প্রতীক্ষিত তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। 

অতীতের সমস্ত রাজনৈতিক তিক্ততা ও ব্যর্থতার দিকে না তাকিয়ে দেশ ও জাতিকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়াই বর্তমান সরকারের মূল লক্ষ্য বলে তিনি দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।সংসদ সচিবালয় সূত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বাজেট বক্তব্যের তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।অধিবেশনে সরকারপ্রধান বিগত স্বৈরাচারী আমলের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, অতীতে ব্যক্তিস্বার্থ চরিতার্থ করতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে অত্যন্ত নির্মমভাবে কুচি কুচি করা হয়েছে। তবে বর্তমানে দেশে একটি টেকসই ও স্থিতিশীল গণতান্ত্রিক পরিবেশ তৈরি হয়েছে যা দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের পথকে সুগম করছে। 

চলমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সংকট, অবৈধ অর্থ পাচার এবং সর্বগ্রাসী দুর্নীতিকে কঠোরভাবে সামনে রেখেই এবারের নতুন জাতীয় বাজেট প্রণয়ন করতে হয়েছে। দেশের সাধারণ জনগণকে সর্বোচ্চ স্বস্তি দেওয়ার আন্তরিক চেষ্টা করছে সরকার এবং এবারের প্রস্তাবিত বাজেটকে তিনি একটি অনন্য ‍‍`জীবনবান্ধব‍‍` বাজেট হিসেবে আখ্যায়িত করেন।প্রধানমন্ত্রী সংসদে উল্লেখ করেন, এবারের ঘোষিত বাজেট কেবল বার্ষিক আয়-ব্যয়ের সাধারণ কোনো হিসাব নয়, বরং এর সুনির্দিষ্ট লক্ষ্য হলো জাতীয় অর্থনীতির একটি মজবুত ভিত গড়ে তোলা। 

একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ে তোলার পাশাপাশি নিম্ন আয়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার অতিরিক্ত বোঝা লাঘব করাই এই বাজেটের মূল উদ্দেশ্য। নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি জরুরি পণ্যের ওপর থেকে আমদানি শুল্ক সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করা হয়েছে, যার ফলে বিগত বছরগুলোর চেনা ঐতিহ্য ভেঙে এবার বাজেটের আগে বা পরে নিত্যপণ্যের দাম নতুন করে বৃদ্ধি পায়নি। সংসদ নেতা বলেন, দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম এই ইতিবাচক প্রবণতা দেখা গেছে, যা সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।দেশের সীমাবদ্ধ সম্পদের কথা অকপটে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘমেয়াদি টেকসই বিনিয়োগ পরিকল্পনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। 

জনগণের কষ্টার্জিত টাকা সম্পূর্ণভাবে জনগণের কল্যাণে ও উন্নয়নে ব্যয় করার অঙ্গীকার জানিয়ে তিনি বলেন, এবার বার্ষিক উন্নয়ন বাজেট একলাফে ৫০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে পুরোপুরি স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে বর্তমান সরকার পুনরুদ্ধার, উত্তরণ এবং পুনর্গঠন—এই তিনটি বিশেষ ধাপে অর্থনীতিকে নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। সংসদে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে কিছু মৌলিক বিষয়ে মতবিরোধ থাকলেও জাতীয় অস্তিত্বের স্বার্থে সবাই একযোগে কাজ করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।