শনিবার, ১০ অক্টোবর, ২০২৬,

তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না:প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় ডেস্ক

জুন ২৯, ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

তরুণদের চাকরির জন্য বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না:প্রধানমন্ত্রী

জাতীয় সংসদ অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তরুণদের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও অর্থনীতি পুনর্গঠনে এক যুগান্তকারী রূপকল্প ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সোমবার স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে তিনি স্পষ্ট জানান, বর্তমান সরকারের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার ফলে তরুণদের চাকরির জন্য আর বছরের পর বছর অপেক্ষা করতে হবে না। 

বিগত স্বৈরাচারী আমলের চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয়, ভুল নীতি ও হাজার হাজার কোটি টাকা পাচারের সুদীর্ঘ পঙ্কিলতা কাটিয়ে দেশ এখন এক নতুন অগ্রযাত্রার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।সংসদ সচিবালয় সূত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই বাজেট বক্তব্যের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটকে সরাসরি স্বীকার করে বলেন, বর্তমান সরকার এই সংকটকে কখনোই কোনো অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করবে না। বরং দেশের সাধারণ জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দৃঢ় সদিচ্ছা ও কার্যকর বাস্তবমুখী নীতির মাধ্যমে এই বহুমুখী সংকট সফলভাবে মোকাবিলা করা হবে। 

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত একটি সম্পূর্ণ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের মানুষ সরকারকে যে পবিত্র দায়িত্ব দিয়েছে, তা রক্ষা করতে বর্তমান প্রশাসন পুরোপুরি বদ্ধপরিকর। সরকারের মূল রাজনৈতিক দর্শন হলো ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ এবং ‘সবার জন্য বাংলাদেশ’। গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা শিরোনামে উপস্থাপিত এবারের নয় লাখ আটত্রিশ হাজার কোটি টাকার বাজেটটি কেবল বার্ষিক আয়-ব্যয়ের সাধারণ কোনো হিসাব নয়, বরং এটি জাতীয় অর্থনীতিকে একটি সম্পূর্ণ নতুন ও শক্তিশালী ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর রূপকল্প।

সরকারপ্রধান আরও উল্লেখ করেন, এই বাজেটের অন্যতম মূল লক্ষ্য হলো জাতীয় অর্থনীতিকে মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী ও লুটেরাদের কবল থেকে বের করে এনে সাধারণ মেহনতি মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। দেশের সম্পদের নানা সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও জাতীয় বিনিয়োগ ও উৎপাদনের চাকা বেগবান করতে উন্নয়ন ব্যয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি করে তিন লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছে। সরকারি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্পের পেছনে কত টাকা ব্যয় হলো তা বর্তমান সরকারের কাছে বড় বিষয় নয়,  সেই প্রকল্প সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে কী ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে এবং কতটা ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে, সেটিই একমাত্র মূল বিবেচনা। 

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কৌশল বাস্তবায়নে সরকার মূলত তিনটি সুনির্দিষ্ট ধাপে নিজেদের পরিকল্পনা সাজিয়েছে।প্রথম ধাপে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালীকরণ এবং প্রান্তিক অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে শুরু হবে সমন্বিত রাজস্ব সংস্কার, ব্যাংকিং খাতের বৈপ্লবিক পুনর্গঠন এবং রপ্তানি বাণিজ্য বহুমুখীকরণ। 

আর চূড়ান্ত ধাপে একটি সম্পূর্ণ উৎপাদনশীল ও উদ্ভাবননির্ভর প্রতিযোগিতাপূর্ণ জাতীয় অর্থনীতির ভিত সুদৃঢ় করা হবে বলে প্রধানমন্ত্রী প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শুধু জিডিপি প্রবৃদ্ধি বাড়লেই দেশের প্রকৃত উন্নয়ন হয় না, প্রকৃত উন্নয়ন তখনই দৃশ্যমান হয় যখন সাধারণ মানুষের ঘরে ঘরে প্রকৃত স্বস্তি আসে এবং দেশের প্রতিভাবান তরুণরা তাদের যোগ্যতা অনুযায়ী সঠিক কাজ পায়। দেশীয় শিল্পের টেকসই বিকাশ, রুগ্ন শিল্প কারখানা পুনরুজ্জীবিত করা এবং নতুন শিল্পাঞ্চল ভিত্তিক কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে একটি স্বাবলম্বী বাংলাদেশ গড়ার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন প্রধানমন্ত্রী।