সেপ্টেম্বর ৬, ২০২৬, ১১:৪০ পিএম
তৃণমূল পর্যায়ের প্রান্তিক মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সারাদেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য কেন্দ্রগুলোর শূন্য পদ পূরণে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার। নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির আলোকে অগ্রাধিকারভিত্তিতে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নেটওয়ার্ক শক্তিশালী করতে এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। প্রথম ধাপে ইতোমধ্যে তেরো থেকে ষোলোতম গ্রেডে জরুরি ভিত্তিতে জনবল নিয়োগের প্রক্রিয়া আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করা হয়েছে।
স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের জনবল সংকট কাটাতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন জানিয়েছেন যে আগামী তিন মাসের মধ্যে সাড়ে সাত হাজার চিকিৎসক এবং পাঁচ হাজার নার্স নিয়োগের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে। এর অংশ হিসেবে বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া একশত চুরাশি জন চিকিৎসক সোমবার স্বাস্থ্যসেবায় সরাসরি যোগদান করছেন, যার মধ্যে সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে উনিশ জন এবং সহকারী সার্জন পদে একশত পঁয়ষট্টি জন রয়েছেন।
মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে অনুমোদিত মোট দুই লাখ চৌত্রিশ হাজার চব্বিশটি পদের মধ্যে তিয়াত্তর হাজার পঁয়তাল্লিশটি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। শূন্য পদের এই হার মোট অনুমোদিত পদের একত্রিশ দশমিক একুশ শতাংশ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস জানিয়েছেন যে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব বা ডিপিপি প্রস্তুত করে অনুমোদনের জন্য অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
প্রশাসনিক অনুমোদন পেলেই ধাপে ধাপে আনুষ্ঠানিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে। পাশাপাশি পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন বিভিন্ন ক্যাটাগরির এক হাজার আটশত পঞ্চান্নটি পদে নিয়োগের জন্য পূর্বে প্রদত্ত ছাড়পত্রের মেয়াদ আগামী ২০২৭ সালের ত্রিশ জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। যেসব প্রতিষ্ঠানে পূর্বে আবেদন গ্রহণ করেও নিয়োগ প্রক্রিয়া স্থগিত ছিল, সেখানেও মামলা ও জটিলতা দ্রুত নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন