অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০৭:০২ পিএম
বাংলাদেশের প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদ বলেছেন, আইন কেবল নিয়মের সমষ্টি নয়, এটি জাতির নৈতিক বিবেকের প্রতিচ্ছবি এবং ন্যায়বিচার ব্যর্থ হলে সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়ে। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ৭২তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই গভীর পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন। অনুষ্ঠানে তিনি কেবল আইন শিক্ষার গৌরবের কথাই বলেননি, বরং ন্যায়ের পুনর্জাগরণের জন্য এক জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন।
প্রধান বিচারপতির বক্তব্যে বারবার ন্যায় এবং নৈতিকতা—এই দুটি শব্দ ফিরে এসেছে, যা আইনকে কেবল একটি পেশা নয়, বরং এক ধরনের সাধনা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন, রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তার প্রশাসনিক কাঠামোতে নয়, বরং তার নৈতিক ভিত্তির ওপর নিহিত। ‘ন্যায় ব্যর্থ হলে সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রও ভেঙে পড়ে’—এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি রাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক সংকটের গভীরতাকেই স্পর্শ করেন।
বিচার বিভাগের কাঠামোগত সংস্কারের প্রশ্নে প্রধান বিচারপতি রেফাত আহমেদ এক নতুন বাস্তবতার দিক উন্মোচন করেন। তিনি তার বক্তব্যে ‘সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর মাধ্যমে বিচার বিভাগের প্রশাসনিক স্বায়ত্তশাসনের একটি রূপরেখা তুলে ধরেন। তবে তিনি কেবল আইনি কাঠামো নয়, বরং বিশ্বাস ও সহযোগিতার সংস্কৃতি গড়ে তোলার ওপরও বিশেষভাবে গুরুত্বারোপ করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘অবিশ্বাস বা একতরফা আচরণ এই স্বাধীনতার ভিত্তিকে দুর্বল করে দিতে পারে।’ এই সতর্কবার্তা তিনি প্রশাসন, বিচারক ও আইনজীবী—সব পক্ষের জন্যই প্রযোজ্য বলে উল্লেখ করেন।
একবিংশ শতাব্দীর প্রেক্ষাপটে বিচারব্যবস্থাকে প্রযুক্তিনির্ভর করার প্রয়োজনীয়তা তিনি স্পষ্টভাবে স্বীকার করেছেন। তবে প্রধান বিচারপতি প্রযুক্তি ব্যবহারের পাশাপাশি ‘মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয়’ ঘটানোর কথাও বলেছেন। তিনি মনে করিয়ে দেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও তথ্য-ভিত্তিক ব্যবস্থাপনা যেমন বিচার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে, তেমনি মানবিকতা ছাড়া সেই বিচারব্যবস্থা যান্ত্রিক হয়ে পড়ার ঝুঁকিও রয়েছে।
আইন শিক্ষার্থীদের প্রতি গভীর মানবিক তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক আইনের পেছনে আছে একটি জীবন, প্রত্যেক রায়ের পেছনে আছে একটি ভাগ্য।’ এই উপলব্ধিই আইনপেশাকে সামাজিক দায়বদ্ধতা ও নৈতিক চর্চায় পরিণত করতে পারে। প্রধান বিচারপতি তার বক্তব্যের শেষে বলেন, ‘ন্যায়বিচারের পুনর্জাগরণ এখন আমাদের সময়ের আহ্বান’—যা কেবল বিচার বিভাগের জন্য নয়, পুরো জাতির জন্যই এক চূড়ান্ত চ্যালেঞ্জ।



দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন