শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

গুম প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন: আসিফ নজরুল

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

অক্টোবর ২৫, ২০২৫, ০৮:৫৫ পিএম

গুম প্রতিরোধে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন: আসিফ নজরুল

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, গুম হচ্ছে হত্যার চেয়েও নিকৃষ্টতম একটি অপরাধ। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই ভয়াবহ অপরাধ প্রতিরোধে শুধু আইনগত সংস্কারই যথেষ্ট নয়, এর জন্য প্রয়োজন গভীর প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার। শনিবার (২৫ অক্টোবর) রাজধানীর গুলশানের হোটেল আমারিতে অনুষ্ঠিত দিনব্যাপী এক কর্মশালার উদ্বোধনী পর্বে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

গুম সংক্রান্ত ‘কমিশন অফ ইনকোয়ারি’-এর উদ্যোগে এবং ঢাকাস্থ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ের (ওএইচসিএইচআর) কারিগরি সহযোগিতায় এই কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।ড. আসিফ নজরুল বলেন, অনেক প্রাণ ও ত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজ একটি পরিবর্তিত পরিবেশে এসে দাঁড়িয়েছে। এই পরিবর্তনকে স্থায়ী ও অর্থবহ করতে হলে গুমের মতো অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা অপরিহার্য।

তিনি বিচারকদের উদ্দেশ্যে বলেন, গুমের বিচার বাস্তবায়নে বিচারকদের সাহসী এবং ন্যায্য ভূমিকা রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশা প্রকাশ করেন, বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা ও দৃঢ় অবস্থানই একদিন বাংলাদেশ থেকে গুমের এই অন্ধকার সংস্কৃতি নির্মূল করতে সক্ষম হবে।কর্মশালায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে গুম সংক্রান্ত কমিশনের সভাপতি বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, গুম প্রতিরোধ করতে হলে বিচার বিভাগ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং মানবাধিকার কাঠামোর মধ্যে একটি সমন্বিত সহযোগিতা অপরিহার্য।

তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন, সাক্ষ্য-প্রমাণ বিশ্লেষণ এবং আধুনিক প্রযুক্তির যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে বিচার বিভাগ ও তদন্ত সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধিকে গুমের বিচার নিশ্চিতের মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। কমিশনের অপর সদস্য বিচারপতি মোঃ ফরিদ আহমেদ শিবলী তার বক্তব্যে বলেন, গুম-সংক্রান্ত মামলাগুলোর কার্যকর তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

তিনি জানান, কমিশন ইতোমধ্যে বিদ্যমান আইনি কাঠামো পর্যালোচনা শুরু করেছে এবং মামলার দ্রুত নিষ্পত্তি, সাক্ষী সুরক্ষা ও ভুক্তভোগী পরিবারের আইনি সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংশোধনের প্রস্তাব প্রস্তুত করছে।কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা এবং ঢাকায় জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়কারীর কার্যালয়ের জ্যেষ্ঠ মানবাধিকার বিষয়ক উপদেষ্টা হুমা খান। কমিশনের সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিসের সঞ্চালনায় এই কর্মশালায় দেশের বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কর্মরত বিচারকসহ প্রায় ৯০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।