শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬,
১৩ নভেম্বর

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‍‍`ম্যাসাকার‍‍`: আ.লীগের গোপন পরিকল্পনা

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

নভেম্বর ১০, ২০২৫, ০৯:৩৫ এএম

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ‍‍`ম্যাসাকার‍‍`: আ.লীগের গোপন পরিকল্পনা

দেশের অর্থনীতির লাইফ লাইন হিসেবে পরিচিত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে টার্গেট করে আগামী ১৩ নভেম্বর বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা ও ‘ম্যাসাকার’ ঘটানোর পরিকল্পনা করছে নিষিদ্ধ ঘোষিত যুবলীগ, ছাত্রলীগ এবং আওয়ামী লীগের একটি সক্রিয় অংশ। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যানুসারে, ঢাকায় ঘোষিত তথাকথিত লকডাউন কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে কুমিল্লা ও মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে সমন্বিতভাবে মিছিল, সংঘর্ষ এবং নাশকতা সৃষ্টির প্রস্তুতি নিচ্ছে এই চক্রটি।

গোয়েন্দা রিপোর্টে সুনির্দিষ্টভাবে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রাম, পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড, আলেখারচর এবং চান্দিনা এলাকাকে টার্গেট করার তথ্য উঠে এসেছে। সূত্র মতে, স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিচার প্রক্রিয়া এবং আসন্ন নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে দেশে অরাজকতা সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ভারত-সংলগ্ন ত্রিপুরা সীমান্ত দিয়ে আগ্নেয়াস্ত্র ও মাদক চোরাচালানের সঙ্গে আওয়ামী লীগ-সম্পৃক্ত একটি সিন্ডিকেট জড়িত রয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর অভিযানে মাদকের সঙ্গে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা এই উদ্বেগকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিজিবি অধিনায়ক এই প্রথম মাদকের সঙ্গে অস্ত্র পাচারের ঘটনাটিকে 'খুবই চিন্তার বিষয়' হিসেবে উল্লেখ করে জানান, গোয়েন্দা সূত্র বলছে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই সিন্ডিকেট মাদকের সঙ্গে অস্ত্র পাঠাচ্ছে। এই ঘটনার পর নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করছে। গোয়েন্দা তথ্য এবং স্থানীয় রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে এই সিন্ডিকেটের একটি বড় অংশ ত্রিপুরা রাজ্যে নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছে। সেখানে বসে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের বিরুদ্ধে অনলাইনে গুজব ছড়ানোর জন্য বিভিন্ন নেটওয়ার্কিং সেল তৈরি করেছে। পতিত ছাত্রলীগ ও যুবলীগের ক্যাডাররা এই কাজে সক্রিয় রয়েছে।

ত্রিপুরা রাজ্যের কয়েকটি সূত্র থেকে জানা যায়, সাবেক রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, সাবেক অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল, কুমিল্লার সাবেক এমপি আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র তাহসিন বাহার সূচির নেতৃত্বেই এই আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগের ক্যাডাররা একত্রিত হয়েছে। তাদের মূল লক্ষ্য হলো সুযোগ বুঝে কুমিল্লা এবং ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে ম্যাসাকার ঘটিয়ে ঢাকা অচল করে দেওয়া।

অন্যদিকে, কুমিল্লার দাউদকান্দি, চান্দিনা, বুড়িচং, আদর্শ সদর, সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম— এই ছয়টি উপজেলার ওপর দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক বিস্তৃত। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ছয় মাসে দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি মিনহাদুল হাসান রাফি ও সাধারণ সম্পাদক ইসরাফিল পিয়াস এই মহাসড়কে অন্তত দশবার ঝটিকা মিছিল করিয়েছে। সম্প্রতি রাফিকে গ্রেপ্তার করা গেলেও ইসরাফিল পিয়াস এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে।

জানা গেছে, পিয়াসের বাবা এবং বুড়িচং উপজেলা মোকাম ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি মাসুদ এই নিষিদ্ধ ছাত্রলীগকে ঝটিকা মিছিল করার জন্য সহায়তা করছেন। স্থানীয় বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা মনে করছেন, মহাসড়ক-সংলগ্ন এই ছয়টি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের (ওসি) সক্রিয় ভূমিকার অভাব রয়েছে, যা এই ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির সুযোগ করে দিচ্ছে। অন্য একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, দীর্ঘদিনের আওয়ামী লীগ করা একটি পক্ষ বর্তমানে বিএনপির নাম ব্যবহার করে ভারতের গোয়েন্দা সংস্থা ‘র’-এর সঙ্গে আঁতাত করেছে। এই পক্ষটি সীমান্ত এলাকা দিয়ে বাংলাদেশে আগ্নেয়াস্ত্র ঢুকানোর পাঁয়তারা করছে বলে জানা গেছে।

এছাড়া, জুলাই গণঅভ্যুত্থান ঠেকাতে কুমিল্লায় আওয়ামী লীগ যেসব অস্ত্র ব্যবহার করেছিল তার অধিকাংশই এখন পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী উদ্ধার করতে পারেনি, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। কুমিল্লা-সংলগ্ন ত্রিপুরা সীমান্ত এলাকায় শত শত আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ভিসার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও অবৈধভাবে সেখানে বসবাস করছে এবং সেখান থেকেই তারা সরকারবিরোধী কার্যকলাপ চালাচ্ছে।

স্থানীয়দের মধ্যে গুঞ্জন রয়েছে যে, সাবেক এমপি বাহাউদ্দিন বাহার ও তার মেয়ে সূচিকে সীমান্ত পার হতে কুমিল্লা জেলার দুই-তিনজন বিএনপি নেতা সহায়তা করেছিলেন। এদিকে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গা ঢাকা দেওয়া সাবেক আওয়ামী লীগ ক্যাডাররা বর্তমানে বুক ফুলিয়ে চলাফেরা করছে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা নিতে স্থানীয় বিএনপি ও জামায়াতের কিছু নেতা তাদের প্রশ্রয় দিয়ে দল ভারী করছে বলেও নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা যায়।