রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

জনগণ দায়িত্ব দিলে দুর্নীতি দমনে লড়বে বিএনপি: তারেক রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ৯, ২০২৫, ১১:২৮ এএম

জনগণ দায়িত্ব দিলে দুর্নীতি দমনে লড়বে বিএনপি: তারেক রহমান

আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে বিএনপি আবারও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে। দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান মঙ্গলবার (৯ ডিসেম্বর) সকালে ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বলেন, জনগণ যদি তাদের দায়িত্ব দেয়, তবে বিএনপি আবারও সেই লড়াইয়ের নেতৃত্ব দিতে প্রস্তুত।

তিনি উল্লেখ করেন, দুর্নীতি কীভাবে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষের জীবনকে পঙ্গু করে দিচ্ছে, তা বুঝতে দূরে যাওয়ার দরকার নেই।

মেধার ভিত্তিতে চাকরি খুঁজতে যাওয়া একজন গ্র্যাজুয়েটের সঙ্গে কথা বললেই বোঝা যায়, অথবা একটি সাধারণ সরকারি সেবা পেতে হিমশিম খাওয়া কৃষকের দিকে তাকালেই পরিস্থিতি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

তারেক রহমান বলেন, কেন খাবারের দাম বাড়ে, কেন স্কুলে ভালো পড়াশোনা মেলে না, কেন রাস্তায় নিরাপত্তা নেই—সব কিছুর পেছনে সেই একই কারণ: দুর্নীতি। এই দুর্নীতি লাখো মানুষের প্রতিদিনের জীবনকে দমবন্ধ করে ফেলেছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াই নতুন নয়, বরং এটি বহু যুগের আলোচনার বিষয়। আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস আমাদের সেই লড়াইয়ের কথা যেমন মনে করিয়ে দেয়, তেমনি মনে করিয়ে দেয় সেই সময়টাকেও, যখন বাংলাদেশ সত্যিকারের অগ্রগতি করেছিল, আর সেই সময়টা এসেছে মূলত বিএনপির আমলেই।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান দৃঢ়তার সঙ্গে দাবি করেন, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কমানোর ক্ষেত্রে ধারাবাহিক রেকর্ড একমাত্র বিএনপিরই আছে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান প্রশাসনে শৃঙ্খলা ফেরানো, পরিচ্ছন্ন সরকারি সেবা নিশ্চিত করা এবং অর্থনীতিকে মুক্ত করার কাজে হাত দিয়েছিলেন, যা অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহার কমিয়ে দিয়েছিল। এরপর প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময়ে সরকারি প্রতিষ্ঠানে আধুনিকায়ন শুরু হয়; নতুন ক্রয় নীতিমালা, কঠোর আর্থিক আইন, শক্তিশালী অডিট ব্যবস্থা এবং পরিষ্কার নজরদারি প্রতিষ্ঠা করা হয়।

তাঁর মতে, সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ ছিল ২০০৪ সালে একটি স্বাধীন কমিশন হিসেবে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গঠন করা, যেখানে সরকার চাইলেও হস্তক্ষেপ করতে পারে না। তিনি দাবি করেন, বিশ্বব্যাংক ও এডিবির মতো আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলো তখন এটিকে বাংলাদেশের জবাবদিহিতার বড় অগ্রগতি হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল এবং টিআইবি’র জরিপেও দেখা গেছে যে ২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পরিস্থিতি উন্নতি হয়েছিল।

আগামী দিনে দুর্নীতির বিরুদ্ধে আরও শক্তভাবে লড়াই করার জন্য বিএনপির পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, তারা প্রতিষ্ঠানের স্বাধীনতা নিশ্চিত করবেন, যার মধ্যে আদালত, দুদক, নির্বাচন কমিশন এবং সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন রাজনৈতিক চাপের বাইরে থাকতে পারে। তিনি পুরোপুরি স্বচ্ছতা আনার জন্য উন্মুক্ত দরপত্র ব্যবস্থা, সম্পদ বিবরণী, রিয়েল-টাইম অডিট এবং শক্তিশালী তথ্য অধিকার আইনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পাশাপাশি ই-গভর্ন্যান্সের মাধ্যমে লাইসেন্স, জমি ও পেমেন্টের মতো সব সেবা অনলাইনে এনে ঘুষের সুযোগ কমানো হবে, যা বিশ্বমান অনুযায়ী ৩০ থেকে ৬০ শতাংশ দুর্নীতি কমাতে পারে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। নৈতিক শিক্ষা এবং হুইসলব্লোয়ার সুরক্ষার মতো পদক্ষেপও তাদের পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।