রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

জামায়াত সম্পর্কে যা বলেছিলেন সাংবাদিক নূরুল কবির

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ডিসেম্বর ২২, ২০২৫, ১০:৪৬ পিএম

জামায়াত সম্পর্কে যা বলেছিলেন সাংবাদিক নূরুল কবির

সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশন টকশোতে নিউ এজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবিরের দেওয়া বক্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ ও নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। সোমবার (২২ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এই প্রতিবাদ জানান।

বিবৃতিতে নূরুল কবিরের মন্তব্যকে ‘অসত্য, অন্যায্য এবং গণতান্ত্রিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী’ বলে অভিহিত করা হয়েছে। জামায়াতের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, প্রবীণ এই সাংবাদিকের এমন বক্তব্য সমাজে বিভাজন সৃষ্টি করবে, যা কারো জন্যই কাম্য নয়।

নূরুল কবির তার বক্তব্যে অভিযোগ করেছিলেন যে, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র হাদির নাম ব্যবহার করে জামায়াতে ইসলামী ও তার সহযোগী বুদ্ধিবৃত্তিক মহল বিভিন্ন পত্রিকা অফিসে সহিংসতা চালাচ্ছে।

এই অভিযোগের জবাবে জামায়াত জানায়, তারা কখনোই এ ধরনের সহিংস কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল না এবং ভবিষ্যতেও জড়াবে না। নূরুল কবিরের আরেকটি মন্তব্য—‘জামায়াতে ইসলামী নির্বাচন পিছিয়ে দিয়ে রাষ্ট্রক্ষমতা ভোগ করতে চায়’—এর প্রতিবাদে এহসানুল মাহবুব জুবায়ের বলেন, এটি বাস্তবতার সাথে সঙ্গতিহীন। কারণ জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমানই সর্বপ্রথম আগামী ফেব্রুয়ারিতে একটি অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের আহ্বান জানিয়ে সর্বাত্মক সহযোগিতার ঘোষণা দিয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, নূরুল কবির ইসলামপ্রিয় মানুষকে ‘ইসলাম রক্ষার’ নামে জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার যে আহ্বান জানিয়েছেন, তা সরাসরি উসকানিমূলক। এছাড়া জামায়াতের প্রার্থীরা ‘বেহেশতে যাওয়ার’ প্রলোভন দিয়ে ভোট চাচ্ছেন এবং জামায়াত প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ‘মোনাফেকি’ করে আসছে—নূরুল কবিরের এমন মন্তব্যগুলোকে ভিত্তিহীন ও দায়িত্বজ্ঞানহীন বলে আখ্যা দিয়েছে দলটি। জামায়াত মনে করে, নূরুল কবিরের মতো একজন প্রবীণ ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকের কাছ থেকে গঠনমূলক সমালোচনা প্রত্যাশিত হলেও ব্যক্তিগত আক্রমণ বা মিথ্যাচার কাম্য নয়।

জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে নূরুল কবিরকে তার তথ্যগুলো যাচাই করে দেখার অনুরোধ জানানো হয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর মন্তব্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের ফলে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক মহলে নতুন করে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।