রবিউল এহ্সান রিপন
জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ০৬:১০ পিএম
ছবি-দিনাজপুর টিভি
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, “কোনো একক দলের শাসন আমরা চাই না, আমরা চাই জনগণের শাসন। যেখানে আলেম-ওলামা থাকবেন, দেশপ্রেমিক মানুষ থাকবেন—যারা দেশকে ভালোবাসেন কিন্তু আধিপত্যবাদ মেনে নেবেন না। সবাইকে নিয়েই আগামীর বাংলাদেশ গড়ব, ইনশাআল্লাহ।
শুক্রবার (২৩ জানুয়ারি) বিকেলে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় বড় মাঠে অনুষ্ঠিত বিশাল নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা একা বাংলাদেশ গড়তে পারব না। তাই এবার শুধু জামায়াতে ইসলামী নয়, বাংলাদেশের মুক্তিকামী ১০ দলের জোটকে ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করতে হবে। জাতিকে ঐক্যবদ্ধ করেই নতুন বাংলাদেশ গড়তে হবে।
বেকার ভাতা নয়, সম্মানজনক কাজ বেকার ভাতা প্রদানের রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, অনেকে ক্ষমতায় গেলে বেকার ভাতা দেওয়ার কথা বলছেন। আমরা কারও হাতে অসম্মানের চাবি তুলে দিতে চাই না; আমরা সম্মানের কাজ তুলে দিতে চাই। আগামী দিনে উত্তরবঙ্গ থেকে আর কোনো বেকারের মুখ দেখতে চাই না। প্রত্যেক যুবক-যুবতীকে মর্যাদার কাজের মাধ্যমে দেশ গড়ার কারিগর বানানো হবে।
উত্তরবঙ্গের প্রতি বৈষম্য ও চিনিকল প্রসঙ্গ উত্তরবঙ্গের প্রতি দীর্ঘদিনের অবহেলার চিত্র তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে উত্তরবঙ্গ গরিব ছিল না; ইচ্ছাকৃতভাবেই এই অঞ্চলকে পিছিয়ে রাখা হয়েছে। সৎ মায়ের সন্তানের মতো আচরণ করা হয়েছে, অথচ এই উত্তরবঙ্গই দেশকে খাদ্য ও পুষ্টি জোগান দেয়। বন্ধ থাকা চিনিকলগুলো চালু করে শ্রমিকদের কর্মসংস্থানে ফিরিয়ে আনা হবে।
প্রতিটি জেলায় মেডিকেল কলেজ ও বিচার বিভাগ স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “উন্নত চিকিৎসার জন্য উত্তরবঙ্গের মানুষকে ঢাকামুখী হতে হয়, যা সবার পক্ষে সম্ভব নয়। জামায়াত সরকার গঠনের সুযোগ পেলে দেশের কোনো জেলা মেডিকেল কলেজবিহীন থাকবে না। ঠাকুরগাঁওয়েও একটি মেডিকেল কলেজ স্থাপন করা হবে।” বিচার বিভাগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিচার বিভাগ হবে সম্পূর্ণ স্বাধীন; সেখানে কোনো রাজনীতিবিদের হস্তক্ষেপ থাকবে না। গরিব-ধনী, নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
দুর্নীতি ও অর্থপাচার প্রসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “দেশ থেকে চুরি করে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার করা হবে এবং ভবিষ্যতে কাউকে আর লুটপাট করতে দেওয়া হবে না।জনসভায় কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ ছাড়াও ঠাকুরগাঁওয়ের তিনটি সংসদীয় আসনের জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী এবং ১০ দলীয় জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।