রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

৮ স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জামায়াতের

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

জানুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১০:৫৫ পিএম

৮ স্থানে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ জামায়াতের

দেশের আটটি স্থানে নির্বাচনী সহিংসতা এবং আচরণবিধি লঙ্ঘনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ তুলেছে জামায়াতে ইসলামী। শুক্রবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মগবাজারে দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। 

তিনি নির্বাচনী মাঠে সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ও নির্বাচন কমিশনের প্রতি জোরালো আহ্বান জানান। ব্রিফিংয়ে বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ঘটে যাওয়া অপ্রীতিকর ঘটনার বিবরণ তুলে ধরা হয়।

অ্যাডভোকেট জুবায়ের অভিযোগ করেন যে নরসিংদী-৪ আসনের সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহায়মেন আল জিহান একটি নির্দিষ্ট দলের প্রার্থীর পক্ষে পক্ষপাতমূলক আচরণ করছেন। 

যার বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কাছে অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে এছাড়া গাজীপুর-৫ আসনে বিএনপির বিরুদ্ধে অন্য দলের নেতাকর্মীদের হুমকি দেওয়া এবং জোরপূর্বক মিছিলে নেওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় জামায়াতের নারী কর্মীদের ওপর হামলা ও প্রচারণায় বাধা প্রদানের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন যে সেখানে নারী কর্মীদের ভিডিও ধারণ করে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে। লক্ষ্মীপুর ও ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন স্থানে পোস্টার পুড়িয়ে দেওয়া এবং নেতাকর্মীদের আহত করার ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।

হবিগঞ্জ-৩ আসনে দলীয় প্রধান ছাড়া অন্য প্রয়াত নেতাদের ছবি ব্যবহার এবং কুমিল্লা-৯ ও ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে জামায়াত কর্মীদের ভয়ভীতি দেখানোর বিষয়গুলোও ব্রিফিংয়ে উঠে আসে। জুবায়ের বলেন যে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ রক্ষায় এই ধরণের সহিংসতা ও উস্কানি অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। এছাড়া নির্বাচনের প্রাক্কালে পোস্টাল ব্যালট নিয়েও গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। তাদের দাবি অনুযায়ী অনেক প্রবাসী ভোটার এখনও ব্যালট হাতে পাননি এবং বিদেশে ছুটির দিন হওয়ায় তারা ভোট পাঠিয়ে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পৌঁছানো নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন।

পোস্টাল ব্যালটের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি জানিয়ে জামায়াত নেতা বলেন যে ২৫ জানুয়ারি সময়সীমা নির্ধারণ করা হলেও কারিগরি ও যোগাযোগগত কারণে অনেকেই ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারছেন না। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও পাশ্চাত্য দেশগুলোতে কিউআর কোড অ্যাক্টিভ হতে দেরি হওয়ায় প্রবাসীরা বিপাকে পড়েছেন। নির্বাচন কমিশনের উচিত এই বাস্তবতা বিবেচনা করে সময় বাড়ানো যাতে প্রবাসীদের ভোটের অধিকার নিশ্চিত হয়। জামায়াতে ইসলামী আশা প্রকাশ করে যে নির্বাচন কমিশন কঠোর হয়ে এসব অনিয়ম ও বাধার বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেবে।