জানুয়ারি ৩০, ২০২৬, ০৯:৫৫ এএম
ফেনীতে জামায়াতে ইসলামীর নির্বাচনী সমাবেশে নেতাকর্মীদের বিশাল ঢল নেমেছে। শুক্রবার ফজর নামাজের পর থেকেই ফেনী সদর উপজেলা ছাড়াও জেলার অন্য ৫টি উপজেলা থেকে দাঁড়িয়ে পাল্লা প্রতীকের ব্যানার ও ফেস্টুন নিয়ে হাজার হাজার নেতাকর্মী ও সমর্থক সমাবেশস্থলে আসতে শুরু করেন। ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠে আয়োজিত এই বিশাল নির্বাচনী জনসভাকে কেন্দ্র করে পুরো শহরজুড়ে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে।
মিছিল আর স্লোগানে মুখরিত হয়ে উঠেছে শহরের অলিগলি। নেতাকর্মীরা ছোট ছোট ট্রাকে এবং হেঁটে দলে দলে সমাবেশে যোগ দিচ্ছেন যার ফলে জনসভার নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে গেছে। ভিড় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন স্বেচ্ছাসেবীরা এবং মাঠ ছাড়িয়ে মানুষের উপস্থিতি এখন পাশের সড়কগুলোতেও লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
দলটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান সমন্বয়ক ডা. শফিকুর রহমান হেলিকপ্টারযোগে ঢাকা থেকে এসে এই সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেবেন।
সকাল ১০টায় তার পৌঁছানোর কথা থাকলেও ভোর থেকেই নেতাকর্মীদের যে উপস্থিতি দেখা গেছে তাকে অভূতপূর্ব বলে বর্ণনা করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। জামায়াত আমিরের সাথে এই বিশাল জনসভায় জাতীয় পর্যায়ের আরও অনেক শীর্ষ নেতা অংশ নিচ্ছেন। কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের এবং সহকারী সেক্রেটারি আবু তাহের মোহাম্মদ মাসুম উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে থাকছেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম এবং চাকসু ভিপি ইব্রাহীম হোসেন রনি যাদের উপস্থিতি তরুণ ভোটারদের মধ্যে আলাদা উৎসাহ তৈরি করেছে। এছাড়া এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহও এই সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন।
জামায়াতে ইসলামীর ফেনী জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে পরিচালিত এই সমাবেশে ইতিমধ্যে স্থানীয় নেতারা বক্তব্য প্রদান শুরু করেছেন। ১১ দলের শরিক দল জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি বা জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান ইতিমধ্যে তার বক্তব্যে জোটের ঐক্যের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন। সমাবেশকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং জেলা পুলিশের পাশাপাশি জামায়াতের নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনীও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে কাজ করছে।
নির্বাচনী প্রচারণার শেষ পর্যায়ে এসে ফেনীর এই বিশাল সমাবেশকে দলটির শক্তির বড় ধরণের মহড়া হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনকালীন এই সময়ে বড় ধরণের কোনো বিশৃঙ্খলা এড়াতে প্রশাসনও সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। জামায়াত নেতাদের মতে এটি কেবল একটি সমাবেশ নয় বরং আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির ভোটে জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটাতেই তারা এই জনসমুদ্র তৈরি করেছেন।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন