ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৩:১৫ পিএম
ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতি এবং শেখ হাসিনার সন্তানদের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে নিজের মতামত ব্যক্ত করেছেন। তিনি মনে করেন যদি এদেশের সাধারণ মানুষ শেখ হাসিনার সন্তানদের স্বাগত জানায় এবং তাদের গ্রহণ করে তবে তাদের রাজনীতি করার অধিকার রয়েছে। তারেক রহমান স্পষ্ট করেছেন যে কারো রাজনীতিতে আসার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ।
বর্তমানে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় কার্যকর রয়েছে এবং তার সন্তানরাও বিদেশের মাটিতে অবস্থান করছেন। তাদের বিরুদ্ধে চলমান মামলাগুলোর বিচার কাজও বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন আছে এবং এমন এক জটিল সময়ে তারেক রহমানের এই উদার মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
নির্বাচনের পর প্রধান রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে সরকার গঠনের সম্ভাবনা সম্পর্কে তারেক রহমান একটি প্রথাগত ধারার বাইরে গিয়ে অবস্থান নিয়েছেন। তিনি জামায়াতের সঙ্গে ঐক্য সরকার গঠনের প্রস্তাব সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন।
তার যুক্তি হলো যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের সঙ্গেই সরকার গঠন করা হয় তবে দেশে শক্তিশালী বিরোধী দল হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে কে। তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ সংসদীয় ব্যবস্থার প্রতি জোর দিয়েছেন যেখানে সরকারের ভুলগুলো ধরিয়ে দেওয়ার জন্য একটি কার্যকর বিরোধী দল থাকা অত্যন্ত প্রয়োজন। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে তারেক রহমানের সহকারীরা বেশ আশাবাদী এবং তারা ৩০০ আসনের মধ্যে দুই-তৃতীয়াংশ আসনে জয়ের প্রত্যাশা করছেন। বিএনপি ২৯২টি আসনে সরাসরি লড়লেও বাকি আসনগুলোতে তাদের মিত্র দলগুলোর প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
বিদেশি বিনিয়োগ ও বৈদেশিক সম্পর্কের বিষয়ে তারেক রহমান বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক স্বার্থকে সবার ওপরে স্থান দিয়েছেন। বিশেষ করে ভারত ও চীনের প্রতি সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি কোনো নির্দিষ্ট একটি দেশের দিকে এককভাবে ঝুঁকে না পড়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেন যে বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্মের জন্য ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করতে পারে এমন যেকোনো দেশের সঙ্গেই তারা বন্ধুত্ব বজায় রাখবেন।
সাড়ে ১৭ কোটি মানুষের এই দেশে নতুন নতুন ব্যবসার সুযোগ তৈরি করাই হবে তাদের আগামীর মূল অগ্রাধিকার। তার মতে বাংলাদেশের জন্য যে প্রস্তাবটি সবচাইতে জুতসই এবং লাভজনক হবে সেটিকেই তারা স্বাগত জানাবেন। সামগ্রিকভাবে তারেক রহমান তার এই সাক্ষাৎকারে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক এবং মেধাভিত্তিক শাসনব্যবস্থার ইঙ্গিত দিয়েছেন যেখানে জনগণের রায়ই হবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন