ফেব্রুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বর্তমান বিশ্বের প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অবস্থান নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। শনিবার দুপুর ১২টায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলা ফুটবল খেলার মাঠে ১১ দলের এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন যে বর্তমান সারা বিশ্ব যখন দ্রুত সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন আমরা নানা কারণে পেছনের দিকে ধাবিত হচ্ছি।
তিনি বিশেষভাবে দেশের প্রবাসীদের অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন যে রেমিটেন্স যোদ্ধারা এদেশকে সচল রাখতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।
অথচ সিলেট বিমানবন্দরটি এখনো পুর্ণাঙ্গ আন্তর্জাতিক মান অর্জন করতে না পারায় পশ্চিমা বিশ্বের সাথে সরাসরি যোগাযোগে প্রবাসীদের চরম ভোগান্তিতে পড়তে হয়। জামায়াত আমির প্রতিশ্রুতি দেন যে তিনি সুযোগ পেলে এই বিমানবন্দরটিকে বিশ্বমানের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে রূপান্তর করবেন।
প্রবাসীদের কল্যাণে একটি মানবিক পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে ডা. শফিকুর রহমান ঘোষণা করেন যে প্রবাসে কোনো রেমিটেন্স যোদ্ধা মারা গেলে তার লাশ রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব ও খরচে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। কোনো বাংলাদেশির মরদেহ বিদেশের মাটিতে বেওয়ারিশ হিসেবে পড়ে থাকবে না এবং এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় সকল আইনি ও আর্থিক সহায়তা রাষ্ট্র প্রদান করবে। জনসভায় তিনি কুলাউড়া থেকে নির্বাচন না করতে পারার জন্য স্থানীয় জনগণের কাছে অত্যন্ত বিনয়ের সাথে ক্ষমা চেয়ে নেন। তিনি জানান যে দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে তিনি দুটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারছেন না।
তবে কুলাউড়া আসনে দাঁড়িপাল্লার প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী নির্বাচিত হলে তিনি হবেন বাস্তবের সংসদ সদস্য আর শফিকুর রহমান নিজে হবেন তার ছায়া সংসদ সদস্য। অর্থাৎ কুলাউড়ার মানুষ একই সাথে দুইজন এমপির সেবা পাবেন বলে তিনি মন্তব্য করেন।মৌলভীবাজার-২ আসনে প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় জামায়াত নেতারা বক্তব্য রাখেন। জামায়াত আমির তার বক্তব্যে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং বৈষম্যহীন সমাজ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
তিনি মনে করেন সৎ ও যোগ্য নেতৃত্ব ছাড়া দেশের মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব নয়। জনসভা শেষে তিনি মৌলভীবাজার-২ আসনের ইঞ্জিনিয়ার সায়েদ আলী এবং মৌলভীবাজার-১ আসনের প্রার্থী মাওলানা আমিনুল ইসলামকে জনগণের সাথে পরিচয় করিয়ে দিয়ে তাদের জন্য ভোট প্রার্থনা করেন। কুলাউড়ার এই ঐতিহাসিক জনসভায় ১১ দলীয় জোটের বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতি নির্বাচনী আমেজকে আরও কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে যা উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন