রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬,

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে হাসনাতের প্রতিক্রিয়া

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ১২:২১ পিএম

ভোটকেন্দ্রে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তে হাসনাতের প্রতিক্রিয়া

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজ ব্যাসার্ধের মধ্যে মোবাইল ফোন ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) দেওয়া নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ। কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) আসনে ১০ দলীয় জোটের এই প্রার্থী ইসির এই সিদ্ধান্তকে ‍‍`হঠকারী‍‍` এবং ‍‍`ভোট চুরির সুযোগ করে দেওয়ার অপকৌশল‍‍` বলে আখ্যায়িত করেছেন। 

সোমবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেন।হাসনাত আবদুল্লাহ তার পোস্টে উল্লেখ করেন যে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ করার অর্থ হলো নাগরিকদের তথ্য পাওয়ার অধিকার এবং নিরাপত্তা বিঘ্নিত করা। 

তিনি প্রশ্ন তোলেন যে কেন মানুষকে ভোট দিতে যাওয়ার সময় তাদের ব্যক্তিগত ফোন ঘরে রেখে যেতে হবে। তার মতে এই সিদ্ধান্তের ফলে ‍‍`সিটিজেন জার্নালিজম‍‍` বা নাগরিক সাংবাদিকতার পথ রুদ্ধ করা হয়েছে। যদি ভোটকেন্দ্রে কোনো ধরনের অনিয়ম বা জালিয়াতি ঘটে তবে ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ বা মোবাইল সাংবাদিকরা তা ধারণ করতে পারবেন না যা মূলত অপরাধীদেরই সুবিধা দেবে।

ইসির এই সিদ্ধান্তের পেছনে জালিয়াতির অভিসন্ধি রয়েছে বলে দাবি করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন যে ভোট চুরি বা কেন্দ্র দখলের মতো ঘটনাগুলো সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত ফোনের মাধ্যমেই দ্রুত জনসমক্ষে আসে। সিসিটিভি ক্যামেরা থাকলেও তা তাৎক্ষণিক ফলাফল দিতে পারে না এবং ক্যামেরার সীমাবদ্ধতা থাকে কিন্তু মোবাইল ফোনের মাধ্যমে যে কোনো প্রান্তের ভিডিও ফুটেজ সাথে সাথেই প্রচার করা সম্ভব। তিনি মনে করেন যে নির্বাচনে ‍‍`ইঞ্জিনিয়ারিং‍‍` করার লক্ষ্যেই এই নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন যে মোবাইল ফোন সাথে না থাকলে কোনো ভোটার বিপদে পড়লে কাউকেও জানাতে পারবেন না যা নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করবে। অনেক ভোটার এই ভীতির কারণে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলতে পারেন যা একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য বড় অন্তরায়। জনগণের নাগরিক অধিকার ও নির্বাচনের স্বচ্ছতা রক্ষায় এই ‍‍`অযৌক্তিক‍‍` সিদ্ধান্ত অনতিবিলম্বে প্রত্যাহার করার জন্য তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায় এটি একটি প্রহসনের নির্বাচনে রূপ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।