ফেব্রুয়ারি ১৫, ২০২৬, ০৯:৪৯ এএম
সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বড় ধরণের ধাক্কা খেয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সারা দেশে ২৫৩টি আসনে প্রার্থী দিলেও দলটি মাত্র একটি আসনে জয়ের মুখ দেখেছে। সবচেয়ে আলোচিত বিষয় ছিল চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীমের তিন ভাইয়ের শোচনীয় পরাজয়। পীর সাহেবের এই তিন ভাই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেও জয়ের দেখা পাননি এবং তাদের মধ্যে একজনের জামানত পর্যন্ত বাজেয়াপ্ত হয়েছে।
ইসলামী আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ নায়েবে আমীর সৈয়দ ফয়জুল করীম বরিশাল-৫ আসনে দ্বিতীয় এবং বরিশাল-৬ আসনে তৃতীয় স্থান অধিকার করেছেন। বরিশাল-৫ আসনে তিনি ৯৩ হাজার ৫২৮ ভোট পেলেও বিএনপির মজিবর রহমান সরোয়ার ১ লাখ ৩১ হাজার ৪৩১ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন।
অন্যদিকে বরিশাল-৬ আসনেও তিনি জয়ের ধারেকাছে যেতে পারেননি। চরমোনাই পীরের আরেক ভাই সৈয়দ ইছহাক মুহাম্মদ আবুল খায়ের বরিশাল-৪ আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ৩৬ হাজার ৭৫৩ ভোট পেয়ে পরাজিত হয়েছেন।
এই আসনে বিএনপির রাজীব আহসান ১ লাখ ২৮ হাজার ৩২২ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হন। তবে সবচেয়ে বড় বিপর্যয় ঘটেছে ঢাকা-৪ আসনে যেখানে প্রার্থী ছিলেন পীরের আরেক ভাই মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ। এই আসনে তিনি মাত্র ৬ হাজার ৫১৮ ভোট পেয়েছেন যার ফলে আইন অনুযায়ী তার জামানত বাজেয়াপ্ত হয়েছে। এই আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী সৈয়দ জয়নুল আবেদীন ৭৭ হাজার ৩৬৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।
ভোটের এই ফলাফল বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে যে চরমোনাই পীরের পরিবার ও দলের শীর্ষ নেতাদের প্রতি সাধারণ ভোটারদের আস্থার ব্যাপক সংকট তৈরি হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে বড় দলগুলোর মেরুকরণের ভিড়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের চিরাচরিত ভোট ব্যাংক রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছে।
বিশেষ করে রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ আসনে জামানত হারানো দলটির জন্য একটি বড় সাংগঠনিক সতর্কবার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনের এই ফলাফল ইসলামী আন্দোলনের আগামীর রাজনৈতিক কৌশলকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন