রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

রাজনীতিতে ফিরতে মরিয়া আ. লীগ তৎপর ভারতীয় লবি

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২৬, ১০:০৩ এএম

রাজনীতিতে ফিরতে মরিয়া আ. লীগ তৎপর ভারতীয় লবি

আ. লীগের তৎপরতা

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ হওয়ার পরপরই বাংলাদেশের রাজনীতিতে পুনরায় সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে নিষিদ্ধ ঘোষিত দল আওয়ামী লীগ। দেশে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়ার মাঝেই দলটির প্রকাশ্যে রাজনীতিতে ফেরার নানা তৎপরতা দৃশ্যমান হচ্ছে। এই প্রক্রিয়ায় ভারতীয় কূটনৈতিক মহল এবং গণমাধ্যমের একটি প্রচ্ছন্ন ভূমিকা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। 

ভারতের সাবেক রাষ্ট্রদূত বীণা সিক্রি সম্প্রতি এক ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইঙ্গিত দিয়েছেন, বাংলাদেশের নতুন সরকার হয়তো প্রথম ধাপে আওয়ামী লীগের ওপর আরোপিত রাজনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করবে। ভারতীয় কূটনীতিকদের এমন মন্তব্যের পর আওয়ামী লীগের ফেরা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

ভারতীয় গণমাধ্যম ও সাংবাদিকদের তৎপরতা সম্প্রতি ঢাকায় অনুষ্ঠিত নবনির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংবাদ সম্মেলনেও লক্ষ্য করা গেছে। সেখানে এক ভারতীয় সাংবাদিক আওয়ামী লীগ ও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল বিষয়ে নতুন সরকারের অবস্থান জানতে চান। 

জবাবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট জানান, দেশের প্রচলিত আইনের শাসন নিশ্চিত করার মাধ্যমেই সব পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি উল্লেখ করেন, দেশের জনগণের সর্বোচ্চ স্বার্থ রক্ষা করেই নতুন সরকার তাদের পররাষ্ট্রনীতি নির্ধারণ করবে। সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পররাষ্ট্রনীতি কোনো নির্দিষ্ট দেশকে কেন্দ্র করে নয়, বরং সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হবে এবং বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করবে।

এরই মধ্যে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কথা বলেছেন ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়। একটি ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বর্তমান নির্বাচনকে স্বীকৃতি না দিলেও তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামীকে আওয়ামী লীগ সরকার নিষিদ্ধ করেনি, বরং আদালতের রায়ের কারণে তারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি। ভবিষ্যতে দেশে ফেরার আশা ব্যক্ত করলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার ফেরা নিরাপদ নয় বলে তিনি মন্তব্য করেন। জয়ের এই বক্তব্যের পর আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতৃত্বের মনোভাব কিছুটা স্পষ্ট হয়েছে।

কেন্দ্রীয় পর্যায়ে আলোচনার পাশাপাশি তৃণমূল পর্যায়েও আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের সক্রিয় হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরদিন থেকেই পঞ্চগড়, খুলনা, দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁওয়ে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা দলীয় কার্যালয়গুলো পুনরায় খোলার চেষ্টা করেছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা। খুলনায় আগুনে পুড়ে যাওয়া দলীয় কার্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে রাজধানীর ধানমন্ডিতে শেখ মুজিবুর রহমানের বাসভবনে শ্রদ্ধা জানাতে গিয়ে কয়েকজন তোপের মুখে পড়লে পুলিশ তাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেয়।

আওয়ামী লীগের এমন প্রত্যাবর্তনের চেষ্টার মধ্যেই দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার কার্যক্রম চলমান রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল জুলাই অভ্যুত্থানে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছে। এছাড়া অন্যান্য মামলায়ও তার কারাদণ্ড হয়েছে। এমন রাজনৈতিক বাস্তবতায় আওয়ামী লীগকে রাজনীতিতে পুনর্বাসিত করার বিষয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীরা বলছেন, জুলাই অভ্যুত্থানে সীমাহীন নির্যাতন এবং বিগত বছরগুলোতে গুম ও খুনের বিচার সম্পন্ন হওয়ার আগে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিকভাবে পুনর্বাসিত হতে দেওয়া হবে একটি বড় ধরনের অন্যায়।