শুক্রবার, ০৯ অক্টোবর, ২০২৬,

হেফাজত আমিরকে উপদেষ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াত

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২৬, ০৪:০০ পিএম

হেফাজত আমিরকে উপদেষ্টা করার প্রস্তাব দিয়েছিল জামায়াত

বক্তব্য দিচ্ছেন জামায়াত আমির

হেফজাতে ইসলামের আমির আল্লামা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীকে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য জামায়াতে ইসলামী আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব করেছিল। ‘ঠিকানায় খালেদ মুহিউদ্দীন’ নামক একটি জনপ্রিয় টকশোতে অংশ নিয়ে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রদান করেন। তিনি জানান যে দেশের বর্তমান প্রেক্ষাপটে একজন আলেম প্রতিনিধি নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে তারা প্রবীণ এই আলেম নেতার নাম প্রস্তাব করেছিলেন। 

তবে অতি বার্ধক্য এবং শারীরিক অসুস্থতার কারণে শেষ পর্যন্ত তাকে উপদেষ্টা পরিষদে রাখা সম্ভব হয়নি।সাক্ষাৎকারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের সময় ছাত্র প্রতিনিধিরা তাদের কাছে নাম চেয়েছিলেন। 

শুরুতে জামায়াতে ইসলামী কোনো নির্দিষ্ট তালিকা দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করলেও পরবর্তীতে বিশেষ অনুরোধে তারা মুহিব্বুল্লাহ বাবুনগরীর নাম প্রস্তাব করে। 

ডা. শফিকুর রহমান উল্লেখ করেন যে হেফাজতে ইসলাম একটি বড় প্ল্যাটফর্ম এবং এর আমির হিসেবে বাবুনগরী সাহেবের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। যদিও অতীতে তিনি জামায়াতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় বক্তব্য দিয়েছেন, তবুও জাতীয় বৃহত্তর স্বার্থে জামায়াতের শীর্ষ নেতৃত্ব তাকেই উপযুক্ত মনে করেছিল।জামায়াত আমির আরও জানান যে প্রস্তাবটি পাওয়ার পর সংশ্লিষ্টরা বাবুনগরী সাহেবের বয়স এবং শারীরিক সক্ষমতা যাচাই করে দেখেন। ৯০ বছরের বেশি বয়স হওয়ায় তিনি রাষ্ট্র পরিচালনার এই গুরুদায়িত্ব ও মানসিক চাপ নিতে পারবেন না বলে ছাত্র প্রতিনিধিরা জামায়াতকে অবহিত করেন।

 

পরবর্তীতে বিকল্প কোনো নাম চাওয়ার প্রেক্ষিতে জামায়াত আর নতুন কোনো নাম দেয়নি এবং ছাত্রদের নিজেদের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচনের পরামর্শ প্রদান করে। আলেম-ওলামাদের নিয়ে কোনো ধরনের বিতর্কে জড়ানো জামায়াতের নীতি নয় বলেও তিনি পরিষ্কার করেন।একই অনুষ্ঠানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ প্রসঙ্গেও কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। 

তিনি জানান যে রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও সম্মানের অংশ হিসেবে বরিশালের একটি নির্বাচনে জামায়াতের শক্তিশালী প্রার্থী থাকা সত্ত্বেও তারা ইসলামী আন্দোলনের পীর সাহেবের ছোট ভাই মুফতি ফয়জুল হকের সম্মানে নিজেদের প্রার্থী প্রত্যাহার করে নিয়েছিলেন। ইসলামী আন্দোলনের নেতারা জামায়াত সম্পর্কে বিভিন্ন সময় নেতিবাচক মন্তব্য করলেও তারা সেসব নিয়ে পাল্টা বিতর্কে না গিয়ে ঐক্যবদ্ধ রাজনীতির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন বলে ডা. শফিকুর রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন।