রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

আমাদের কন্যারা বাস্তব জীবনের মেয়ে, যাদের স্বপ্নও বাস্তব: জাইমা রহমান

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মার্চ ৮, ২০২৬, ০৮:১৯ পিএম

আমাদের কন্যারা বাস্তব জীবনের মেয়ে, যাদের স্বপ্নও বাস্তব: জাইমা রহমান

ব্যারিস্টার জাইমা রহমান

আন্তর্জাতিক নারী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশের নারী ও কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা এবং তাদের সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন ব্যারিস্টার জাইমা রহমান। আজ রোববার ৮ মার্চ ২০২৬ সন্ধ্যা ৭টা ৫০ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে তিনি এই বিষয়ে আলোকপাত করেন। জাইমা রহমান তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে গত কয়েক সপ্তাহে বাংলাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের নারী ও তরুণীদের সঙ্গে সরাসরি সাক্ষাৎ করার মাধ্যমে তিনি তাদের প্রত্যাশা ও স্বপ্নের কথা শুনেছেন। 

তার মতে আমাদের দেশের কন্যারা বাস্তব জীবনের মেয়ে এবং তাদের দেখা স্বপ্নগুলোও অত্যন্ত বাস্তব ও নিখাদ। তাদের চোখে সফল হওয়ার প্রবল ইচ্ছা এবং দৃঢ় সংকল্পের আলো ফুটে ওঠে বলে তিনি অভিমত ব্যক্ত করেন।

জাইমা রহমান তার পোস্টে দেশের কন্যাশিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন যে যদি রাষ্ট্র ও সমাজ এই কন্যাদের নিরাপত্তা দিতে এবং তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে বারবার ব্যর্থ হয় তবে বাংলাদেশ কীভাবে সমৃদ্ধির পথে এগিয়ে যাবে। 

ইউনিসেফের ২০২৪ সালের একটি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে তিনি জানান যে বাংলাদেশে ১ থেকে ১৪ বছর বয়সী প্রতি ১০ জন শিশুর মধ্যে ৯ জনই প্রতি মাসে কোনো না কোনো ধরনের সহিংসতার শিকার হচ্ছে। এছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে দেশে ঘটে যাওয়া শিশুধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের ন্যাক্কারজনক ঘটনাগুলো গোটা জাতিকে নাড়িয়ে দিয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন। ইউনিসেফের তথ্যানুযায়ী ২৮ শতাংশ কিশোরী মেয়ে গত এক বছরে শারীরিক বা মানসিক নির্যাতনের তিক্ত অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছে।

ব্যারিস্টার জাইমা আরও বলেন যে বাল্যবিবাহ বাংলাদেশের একটি কঠিন বাস্তবতা হিসেবে এখনো রয়ে গেছে। বর্তমানে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় অর্ধেকেরই বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে। তিনি মনে করেন বাল্যবিবাহ কোনো মেয়েকে সুরক্ষা দেয় না বরং এটি তার শৈশব কেড়ে নেয় এবং স্বাবলম্বী হয়ে স্বাধীনভাবে বাঁচার পথকে রুদ্ধ করে দেয়। এ বছরের আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী প্রতিটি কন্যার জন্য শিক্ষা, সুরক্ষা এবং নেতৃত্বের সুযোগ তৈরি করার আহ্বান জানান তিনি। জাইমা রহমানের মতে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়বে এদেশের কন্যারা। তাই তাদের জ্ঞানার্জন ও স্বকীয়তায় জীবন গড়ার ক্ষমতাপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব।