মার্চ ১৯, ২০২৬, ১২:০৬ পিএম
ঈদুল ফিতরের পর রাজপথে বড় ধরনের আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)। গত বুধবার দল দুটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন, গণভোটের ফল কার্যকর করা এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবিতে তারা আন্দোলনের ডাক দেবে।
মূলত জুলাই সনদের নির্দেশনা অনুযায়ী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফল প্রকাশের ৩০ দিনের মধ্যে সংস্কার পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা থাকলেও সরকার তা পালন করেনি। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি গেজেট প্রকাশের পর নির্ধারিত সময় পার হয়ে যাওয়ায় রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে অনিশ্চয়তা ও উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।
১১ দলীয় জোটের লিয়াজোঁ কমিটির এক বৈঠকে সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে বিশদ আলোচনা হয়। জোটের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানান, সরকার জনগণের ম্যান্ডেট পাওয়া সত্ত্বেও সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করতে বিলম্ব করছে।
একই দিনে দুটি পৃথক ভোট হলেও কেবল জাতীয় সংসদের অধিবেশন ডাকা হয়েছে, কিন্তু সংস্কার পরিষদের ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। জোটের নেতাদের মতে, এটি রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতি থেকে সরে যাওয়ার একটি পরিষ্কার ইঙ্গিত এবং এতে গণভোটে অংশ নেওয়া জনগণের প্রত্যাশাকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। দ্রুত কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া না হলে শীর্ষ নেতাদের বৈঠকের মাধ্যমে ঈদের পর চূড়ান্ত কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
জাতীয় সংসদেও এই বিষয়টি নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে তীব্র বিতর্ক চলছে। বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান নির্দিষ্ট সময়ে সংস্কার পরিষদের অধিবেশন আহ্বান না করায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এর জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, বর্তমান সংবিধানে এ ধরনের কোনো পরিষদের সুনির্দিষ্ট বিধান না থাকায় রাষ্ট্রপতির পক্ষে এর অধিবেশন ডাকা সম্ভব হয়নি। সরকারপক্ষের দাবি, আগে সাংবিধানিক সংশোধন প্রয়োজন, অন্যদিকে বিএনপি নেতারাও এ নিয়ে আইনি জটিলতার আশঙ্কার কথা তুলে ধরছেন। তবে এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেছেন যে সরকার সংস্কারের প্রশ্নে অন্যায্যভাবে পিছিয়ে যাচ্ছে।
বিরোধী দলগুলোর দাবি, জুলাই সনদের মূল লক্ষ্যই ছিল দ্রুত সংস্কার প্রক্রিয়া শুরু করা। সংসদের ভেতরে বিষয়টি সমাধান না হলে রাজপথে নামাই হবে তাদের শেষ পথ। এনসিপির এক শীর্ষ নেতা উল্লেখ করেছেন যে তারা আলোচনা এবং আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি আন্দোলনের পথও খোলা রাখছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ঈদের পর জামায়াত ও এনসিপির এই সম্ভাব্য কর্মসূচি দেশের বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। সরকার যদি দ্রুত কোনো সমঝোতায় না আসে, তবে সংসদের ভেতরে ও বাইরে একযোগে আন্দোলনের তীব্রতা বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন