মার্চ ২৬, ২০২৬, ০৯:৩৯ পিএম
১৯৭১ সালের ৭ মার্চ রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণটি ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’ বলে শেষ হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। সম্প্রতি গণমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধের সূচনা এবং তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজের এই পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
তিনি দাবি করেন ওই ভাষণটি মূলত পাকিস্তান রাষ্ট্রকে অক্ষুণ্ণ রেখে বাঙালির হাতে ক্ষমতা হস্তান্তরের একটি নিয়মতান্ত্রিক প্রচেষ্টা ছিল।
সাক্ষাৎকারে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু সেই সময়ের উত্তাল দিনগুলোর স্মৃতিচারণ করেন। তিনি বলেন মার্চের এক থেকে সাত তারিখ পর্যন্ত ঢাকা শহর মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়েছিল। ওই সময় আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান জনসভায় ভাষণ দিতে আসেন যাকে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানের হবু প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ঘোষণা করেছিলেন।
টুকু তার ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে বলেন ওই ভাষণটি শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনের শ্রেষ্ঠ ভাষণ ছিল এবং এটি তাকেও দারুণভাবে উদ্বেলিত করেছিল। সাধারণ মানুষ সেখানে স্বাধীনতার ঘোষণা শোনার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে উপস্থিত হয়েছিল এবং মাঠ থেকে মুহুর্মুহু স্লোগান আসছিল।জ্বালানিমন্ত্রী উল্লেখ করেন শেখ মুজিবুর রহমান তার বক্তব্যের মাধ্যমে জনগণের চাহিদা এবং নিজের অবস্থানের মধ্যে একটি ভারসাম্য বজায় রেখেছিলেন।
ভাষণের শেষ দিকে তিনি ‘এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম মুক্তির সংগ্রাম’ বললেও চূড়ান্তভাবে ভাষণটি শেষ করেছিলেন ‘জয় বাংলা, জয় পাকিস্তান’ বলে। টুকুর মতে ওই বক্তব্যের মাধ্যমে পাকিস্তান রাষ্ট্রকে অখণ্ড রেখে ক্ষমতা হস্তান্তরের যৌক্তিকতা তুলে ধরা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন শেখ মুজিবুর রহমান পাকিস্তানি সেনাদের ব্যারাকে ফিরে যেতে বলেছিলেন এবং আলোচনার মাধ্যমে পার্লামেন্টে বসে ক্ষমতা হস্তান্তরের আহ্বান জানিয়েছিলেন।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা মনে করেন ৭ মার্চের ওই ভাষণটি কোনো আনুষ্ঠানিক স্বাধীনতার ঘোষণা ছিল না। তিনি যুক্তি দেন যে ১৫ মার্চ থেকে ২৫ মার্চ পর্যন্ত ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে শেখ মুজিবুর রহমানের দীর্ঘ আলোচনা হয়েছিল যা স্বাধীনতার ঘোষণা দেওয়ার পর হওয়ার কথা নয়। তিনি আরও দাবি করেন ওই বৈঠকে ছয় দফার ভিত্তিতে পাকিস্তান গঠনের প্রচেষ্টা চলছিল।
এমনকি ২৫ মার্চ দুপুরেও বিদেশি সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আলোচনার অগ্রগতির বিষয়ে শেখ মুজিবুর রহমান ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছিলেন বলে টুকু তার সাক্ষাৎকারে উল্লেখ করেন। তার মতে ৭ মার্চের ভাষণটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ক্ষুরধার হলেও এটি ছিল একটি নিয়মতান্ত্রিক রাজনৈতিক আন্দোলনের অংশ।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন