মার্চ ২৬, ২০২৬, ১১:১৯ পিএম
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস পদ্মা নদীতে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (চরমোনাই পীর)। বৃহস্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং কারো অবহেলা আছে কি না তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, দৌলতদিয়া ঘাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে একটি বাস নদীতে তলিয়ে যাওয়ার দৃশ্য দেশবাসীকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। বাসে থাকা সাধারণ যাত্রীদের করুণ পরিণতির কথা ভেবে আমরা শিউরে উঠেছি। এই ঘটনার পেছনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিবৃতিতে চরমোনাই পীর আরও উল্লেখ করেন যে সড়ক ও নৌপথে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু কোনোভাবেই কাম্য নয়। ফেরিঘাটগুলোতে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা এবং ত্রুটির কারণে প্রায়ই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটে থাকে।
দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের এই নির্দিষ্ট ঘটনায় কারো ব্যক্তিগত অবহেলা কিংবা কোনো পদ্ধতিগত দুর্বলতা দায়ী কি না, তা নিবিড়ভাবে অনুসন্ধান করতে হবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে সরকারকে আরও কঠোর ও দায়িত্বশীল পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে দুর্ঘটনায় নিহতদের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন মুফতি রেজাউল করীম।
ইসলামী আন্দোলনের এই শীর্ষ নেতা আরও বলেন, জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের মৌলিক দায়িত্ব। কিন্তু বারবার এমন দুর্ঘটনা প্রমাণ করে যে জননিরাপত্তার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো যথেষ্ট সজাগ নয়। তিনি স্থানীয় প্রশাসনকে উদ্ধার তৎপরতা আরও জোরদার করার অনুরোধ জানান এবং আহতদের সুচিকিৎসা নিশ্চিত করার দাবি জানান। সড়ক ও জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় না আনলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব নয়। শোকাতুর এই সময়ে তিনি দেশবাসীকে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানোরও অনুরোধ জানান।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন