এপ্রিল ৬, ২০২৬, ০৬:২০ পিএম
চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থান কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য নয়, বরং রাষ্ট্রকাঠামোর আমূল পরিবর্তনের লক্ষ্যেই সংঘটিত হয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দক্ষিণাঞ্চলীয় মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন যে সরকার যদি সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম থেকে পিছিয়ে যায়, তবে জুলাইয়ের মতো আরেকটি গণ-অভ্যুত্থানের প্রস্তুতি শুরু করা হবে।
আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারের বিডিএল ভবনে ‘ভয়েস অব রিফর্ম’ আয়োজিত এক নাগরিক সংলাপে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বিচার বিভাগের স্বাধীনতা-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ বাতিল ও গুম প্রতিরোধ-প্রতিকার অধ্যাদেশ স্থগিত: সুশাসন ও মানবাধিকারের অগ্রযাত্রার প্রতি হুমকি’ শীর্ষক এই সংলাপে দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন শেখ হাসিনা কোনো একক ব্যক্তির নাম নয়, বরং এটি অনেকগুলো ফ্যাসিবাদী আইডিয়ার সমষ্টি। যদি বিদ্যমান শাসনব্যবস্থা বা সিস্টেম অক্ষুণ্ণ রাখা হয়, তবে যেকোনো ব্যক্তিই পরবর্তীতে পুনরায় ‘হাসিনা’ হয়ে উঠতে পারে। এ কারণে ব্যক্তির চেয়ে রাষ্ট্র সংস্কার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি বলে তিনি উল্লেখ করেন।মানবাধিকার কমিশনের অধ্যাদেশ কার্যকর না হওয়ার ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন এই অধ্যাদেশ যথাযথভাবে কার্যকর না হলে তদন্তের সমস্ত দায়ভার পুনরায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হাতে চলে যাবে।
এর ফলে জুলাই অভ্যুত্থানে পুলিশ কর্তৃক সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের তদন্তভার পরোক্ষভাবে পুলিশের হাতেই থাকবে যা কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের পক্ষে যাবে না। গুম হওয়া পরিবারগুলোর দীর্ঘদিনের যন্ত্রণার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন এ দেশের মানুষ এমন একটি রাষ্ট্র চেয়েছিল যেখানে কাউকে বাসা থেকে তুলে নিয়ে চিরতরে গায়েব করে দেওয়া হবে না।
ভয়েস অব রিফর্মের উদ্যোক্তা ফাহিম মাশরুরের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই সংলাপে মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবী মানজুর-আল-মতিন বলেন নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অপসারণ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দ্রুত গৃহীত হলেও বিচার বিভাগের স্বাধীনতার আইনটি আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় আটকে আছে। তিনি সরকারকে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বিচার বিভাগকে স্বাধীন করার আহ্বান জানান।
সংলাপে আরও বক্তব্য রাখেন বিশিষ্ট রাষ্ট্রবিজ্ঞানী দিলারা চৌধুরী, প্রখ্যাত আলোকচিত্রী শহিদুল আলম, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন এবং আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ দেশের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বক্তারা সবাই একমত হন যে চব্বিশের বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে হলে রাষ্ট্রব্যবস্থার খোলনলচে পাল্টে ফেলার কোনো বিকল্প নেই।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন