এপ্রিল ১৭, ২০২৬, ০৬:১২ পিএম
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) দীর্ঘদিনের কাণ্ডারি ও মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজনীতি থেকে অবসর নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন। সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি তাঁর এই ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের কথা জানান। একই সাথে দেশের সর্বোচ্চ পদ তথা রাষ্ট্রপতি হওয়া নিয়েও নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক।
তাঁর এই ঘোষণা দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মির্জা ফখরুল জানান, দলের আগামী জাতীয় কাউন্সিল পর্যন্ত তিনি দায়িত্ব পালন করতে চান এবং এরপরই সক্রিয় রাজনীতি থেকে বিদায় নেবেন।
সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রপতি হওয়ার কোনো আকাঙ্ক্ষা আছে কিনা—এমন এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অত্যন্ত সোজাসাপ্টা উত্তর দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো বড় প্রত্যাশা তাঁর কখনই ছিল না। জীবনের এই দীর্ঘ পথপরিক্রমায় তিনি যেখানে পৌঁছেছেন, সেটাকে তিনি তাঁর ভাগ্য ও কর্মের ফল হিসেবেই দেখেন।
তাঁর ভাষায়, কেবল ব্যক্তিগত আকাঙ্ক্ষা মানুষকে এতদূর নিয়ে আসে না। তিনি মনে করেন, রাষ্ট্রপতি পদের মতো বড় কোনো পদের প্রতি তাঁর কোনো মোহ বা লালসা কোনোকালেই ছিল না।রাজনীতি থেকে বিদায় নেওয়ার কারণ হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাঁর শারীরিক অসুস্থতা ও বয়সের কথা উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন, তিনি এখন শারীরিকভাবে বেশ ক্লান্ত বোধ করছেন। দলের আগামী কাউন্সিল পর্যন্ত তাঁকে পদে থাকতে হচ্ছে, কিন্তু এরপর তিনি সত্যিই অবসর নিতে চান।
তাঁর মতে, নতুন প্রজন্মের জন্য জায়গা ছেড়ে দেওয়া প্রয়োজন। উল্লেখ্য যে, বিএনপির সর্বশেষ জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়েছিল প্রায় এক দশক আগে। বর্তমানে তৃণমূল পর্যায়ে সম্মেলন সম্পন্ন করে চলতি বছরের মধ্যেই কেন্দ্রীয় কাউন্সিল সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করছে দলটি।মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের রাজনৈতিক ইতিহাস বেশ দীর্ঘ। তিনি ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ থেকে বিএনপির মহাসচিব হিসেবে পূর্ণাঙ্গ দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১১ সাল থেকে টানা পাঁচ বছর তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব সামলেছেন।
২০০৯ সালে দলের পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাঁকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। বিএনপির কঠিন সময়ে দলের হাল ধরে রাখা এই নেতার অবসরের ঘোষণা কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে। তবে কাউন্সিল কবে নাগাদ হবে সে বিষয়ে দিনক্ষণ এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান তিনি। তাঁর এই প্রস্থান বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।


দিনাজপুর টিভির সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন