রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬,

হামে শিশুমৃত্যু ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ

দিনাজপুর টিভি ডেস্ক

মে ১১, ২০২৬, ১০:৫৩ পিএম

হামে শিশুমৃত্যু ও সীমান্ত হত্যার প্রতিবাদে ঢাবিতে ছাত্রশক্তির বিক্ষোভ

হামে আক্রান্ত হয়ে শিশু মৃত্যুর ঘটনা, টিকা ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনা এবং সীমান্তে বাংলাদেশি হত্যার প্রতিবাদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) মানববন্ধন করেছে জাতীয় ছাত্রশক্তি। সোমবার (১১ মে) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি সংলগ্ন রাজু ভাস্কর্যের পাদদেশে এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।মানববন্ধনে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং নানা দাবি সম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। 

প্ল্যাকার্ডগুলোতে ‘হামের প্রতিকার ও প্রতিরোধে ব্যর্থতার দায় নিতে হবে’, ‘আর কত ফেলানীর লাশ বইবে বাংলাদেশ’, ‘সীমান্ত হত্যা বন্ধ করো’ এবং ‘হামে ৪০০ শিশু মৃত্যুর দায় সরকারকে নিতে হবে’ এমন বার্তা দেখা যায়।

মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাবি শাখার সভাপতি তাহমিদ আল মুদ্দাসসির চৌধুরী বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার চার মাস পার হলেও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। জ্বালানি সংকটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি জানান, সরকার পর্যাপ্ত জ্বালানি মজুদের কথা বললেও সাধারণ মানুষকে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়েছে। পরে দাম বাড়ানোর পর লাইনের সংকট কমে যাওয়ায় তিনি সিন্ডিকেটের প্রভাবের অভিযোগ তোলেন।

সীমান্ত পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ভারত সীমান্তে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, কিন্তু এ বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান নীরব। তিনি এটিকে ‘নতজানু পররাষ্ট্রনীতি’ হিসেবে উল্লেখ করেন। হামের প্রাদুর্ভাবে শিশু মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়ে তিনি দ্রুত একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের দাবি জানান। একই সাথে তিনি স্বাস্থ্য খাতে জরুরি অবস্থা জারির আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেক ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অক্সিজেনের ঘাটতি রয়েছে।

মানববন্ধনে জাতীয় ছাত্রশক্তির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সিনিয়র সহসভাপতি আসিয়া আক্তার রেমিজা বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের পর জনগণ একটি স্বাধীন ও স্বনির্ভর পররাষ্ট্রনীতির প্রত্যাশা করেছিল। তবে বর্তমান সরকার সেই প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়ে ‘নতজানু’ নীতি অনুসরণ করছে। তিনি আরও বলেন, হামের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা স্পষ্ট অবস্থান এখনো দেখা যায়নি।

সংগঠনটির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ সাইফুল্লাহ বলেন, নির্বাচনের আগে ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান দিলেও বর্তমান সরকার সীমান্ত হত্যার বিষয়ে নীরব ভূমিকা পালন করছে। তিনি অভিযোগ করেন, সীমান্তে হত্যাকাণ্ড নিয়ে সরকারের অবস্থান অস্পষ্ট এবং দুর্বল। হামে শিশু মৃত্যুর প্রসঙ্গে তিনি বলেন, টিকা ব্যবস্থাপনায় অব্যবস্থাপনার কারণে পরিস্থিতি প্রতিকূল আকার ধারণ করেছে। দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ নিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য তিনি স্বাস্থ্যমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান।

কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া নেতারা দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও পররাষ্ট্রনীতিতে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান জানান। হামের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ, স্বাস্থ্য খাতের সংস্কার এবং সীমান্ত হত্যার অবসানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবিও পুনরুল্লেখ করেন তারা।